ভারতে আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি হয়রানির অভিযোগে নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গভীর রাতে এক জরুরি বৈঠকের পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়েছে। বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর সিজেপি তাদের আন্দোলন কর্মসূচি থেকে পিছু হটেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা স্থায়ী হওয়া এই বৈঠকে বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপি সিজেপি নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা এফআইআর প্রত্যাহার, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) রাত ১টার দিকে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার তাদের আশ্বাস দিয়েছে যে অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তিনি বলেন, কোনো বিক্ষোভকারীকে একা ফেলে রাখা হবে না, আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়নে কোনো ঘাটতি থাকবে কি না, তা নিয়ে সিজেপির উদ্বেগের জবাবে সরকারি প্রতিনিধিরা বিহার স্বরাষ্ট্র বিভাগের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেখান। যেখানে স্পষ্টভাবে সব এফআইআর প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে।

সৌরভ দাস আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি বা এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্য থেকেও মঙ্গলবারের মধ্যে অনুরূপ নিরাপত্তামূলক প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। নিজ নিজ শহরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থী বা বিক্ষোভকারী যেন আইনি হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে তাদের দল কাজ চালিয়ে যাবে। প্রথম দিন থেকেই তারা বিক্ষোভকারীদের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে জানান তিনি।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার যে সমঝোতা হয়েছিল, তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, সমঝোতা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি জানান, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দিল্লি ও অন্যান্য জায়গায় অসংখ্য মানুষের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এমনকি দিল্লিতে আন্দোলনের লজিস্টিক সহায়তায় যুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদেরও আটক করা হয়েছে। এই সমঝোতা লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তারা পুনরায় রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যা মধ্যরাতের বৈঠকের পর আপাতত স্থগিত হলো।