ঘানার সবচেয়ে লম্বা মানুষ সুলেমানা আবদুল সামেদ আর নেই। আউচে নামে পরিচিত ৩৩ বছর বয়সী এই তরুণ সোমবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর তামালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অস্বাভাবিক উচ্চতার কারণে তিনি নিজ দেশে এক প্রকার তারকাখ্যাতি পেয়েছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো ঘানাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আউচে দীর্ঘদিন ধরে ‘মারফান সিনড্রোম’ নামের একটি বিরল জেনেটিক রোগে ভুগছিলেন। এই রোগের কারণে তার হাত-পা অস্বাভাবিকভাবে লম্বা হয়ে যায় এবং বিশের কোঠায় পৌঁছানোর পর তার শরীরে জায়ান্টিজম বা অতি-উচ্চতা ধরা পড়ে। সম্প্রতি তার পায়ের একটি ক্ষত সংক্রমিত হলে তাকে নিজ গ্রাম গামবাগা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে তামালের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন তিনি চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিচ্ছিলেন, তবে সোমবার সকালে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে তিনি মারা যান।
আউচের স্বজন সুলেমানা আবদুল কুদুস জানান, আউচে অত্যন্ত উদার ও দয়ালু মনের মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তাদের বাড়িতে অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। কুদুস আরও জানান, আউচের পায়ের ক্ষতটি সরাসরি মারফান সিনড্রোমের কারণে না হলেও শারীরিক জটিলতার কারণেই তৈরি হয়েছিল। আউচের কারণে তাদের ছোট্ট গ্রাম গামবাগা দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিল। দেশের যেখানেই তিনি যেতেন, মানুষ তার গ্রামের কথা জিজ্ঞেস করলেই গামবাগাকে 'সবচেয়ে লম্বা মানুষের গ্রাম' হিসেবে চিনে নিত। অতিরিক্ত মানুষের সমাগম এড়াতে তাকে নিজ গ্রামের পরিবর্তে তামালেতেই দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।
আউচে জন্ম থেকেই এত লম্বা ছিলেন না। ২২ বছর বয়সে রাজধানী আক্রার একটি কসাইখানায় কাজ করার সময় হঠাৎ করেই তার শরীর দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সে সময় তিনি লক্ষ্য করেন তার জিহ্বা এতটাই বড় হয়ে গেছে যে তিনি ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা তার মারফান সিনড্রোম শনাক্ত করেন, যা শরীরের সংযোজক টিস্যুকে আক্রান্ত করে। এই শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় বছর আগে তাকে গাড়িচালক হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসতে হয়েছিল।
২০২২ সালের শেষ দিকে বিবিসি আউচের উচ্চতা মেপে পেয়েছিল ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি (২২৩ সেন্টিমিটার)। ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর আগে তিনি আরও কিছুটা লম্বা হয়েছিলেন। মারফান সিনড্রোম তার সামাজিক জীবনকে অনেকটাই সীমিত করে দিয়েছিল। একসময় ভালো অ্যাথলেট ও ফুটবলার হলেও শেষ জীবনে তিনি সামান্য দূরত্বও হাঁটতে পারতেন না। চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে সম্প্রতি ঘানার ব্যবসায়ী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জন মাহামার ভাই ইব্রাহিম মাহামা তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তামালে টিচিং হাসপাতালে তার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আউচে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রেখেছিলেন এবং নিজের তারকাখ্যাতি বেশ উপভোগ করতেন।