প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০: ৪৩ আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০: ৫১

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় ২৯ জুলাই এক অনন্য ও দ্রোহের দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সংঘটিত শত শত হত্যাকাণ্ডের ক্ষত আড়াল করতে প্রহসনমূলক ‘রাষ্ট্রীয় শোক’ পালনের ঘোষণা দেয়। তাদের এই পদক্ষেপ ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকার এক মরিয়া চেষ্টা। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই শোককে ‘নির্মম উপহাস’ আখ্যা দিয়ে রাজপথে ও অনলাইনে নতুন এক বিপ্লবের ডাক দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছে, রক্তের দাগ না শুকাতেই সরকারি শোকের কোনো নাটক এ দেশের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। সমন্বয়ক মাহিন সরকারের পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, হাজারো শিক্ষার্থীর ওপর গুলি চালিয়ে ও শত শত প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পর এই রাষ্ট্রীয় শোক পালন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ৩০ জুলাই সারা দেশে মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে ছবি তোলা এবং তা অনলাইনে প্রচারের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২৯ জুলাই মধ্যরাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক রক্তিম লাল আভার রূপ নেয়। সাধারণ শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং অনেক তারকা তাদের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে এই প্রতিবাদের সঙ্গে সংহতি জানান।

সরকার যখন সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে ‘নিরাপত্তা হেফাজতের’ নামে কর্মসূচি প্রত্যাহারের নাটক করছিল, তখন উচ্চ আদালত থেকেও আসে কঠোর পর্যবেক্ষণ। ২৯ জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিট শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, কেন জাতিকে নিয়ে মশকরা করা হচ্ছে? আদালত মন্তব্য করেন, যাকে ধরেন তাকেই খাবার টেবিলে বসিয়ে দেওয়া হয়—যা টিআইবি কর্তৃক অনৈতিক ও বেআইনি হিসেবেও আখ্যায়িত হয়েছে।

ফ্যাসিস্ট সরকার শোকের ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে দমন-পীড়ন থামায়নি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও বরিশালে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলা চালায়। ১৬ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ২৯ জুলাইয়ের সমাবেশে এই ঘটনাকে ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, খুনি সরকারের শোক পালনের কোনো নৈতিক অধিকার নেই। সুলতানা কামাল, শাহদীন মালিক এবং গীতি আরা নাসরিনের মতো বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত ‘জাতীয় গণতদন্ত কমিশন’ প্রতিটি শহীদের রক্তের নিরপেক্ষ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।

জনগণের দৃষ্টি সরাতে সরকার ২৯ জুলাই রাতে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করে। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়ে দিয়েছে, ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না। তাদের কাছে এই লাল কাপড় কেবল একটি প্রতীক নয়, বরং এটি ইনসাফের পতাকার সমতুল্য।