হাইকোর্টের নির্দেশে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত: বিকল্প চিকিৎসকদের স্বস্তি

এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী নন এমন চিকিৎসা পদ্ধতির (যেমন হোমিওপ্যাথি, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক) সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত করা হয়েছে। এই আদেশের ফলে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সাথে, আদালত একটি রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, কেন এই নির্দেশনাকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।

*নির্দেশনার প্রেক্ষাপট:*

গত ১০ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাশেদা রহমত উল্লাহ স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এবং হাইকোর্টের দুটি রিট পিটিশনের (২৭০০/২০১০ ও ১৩০৪/২০২৪) রায় অনুযায়ী এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী ব্যতীত অন্য কোনো পেশাজীবী (হোমিওপ্যাথি, ইউনানি, আয়ুর্বেদিকসহ) নামের আগে ‘ডাক্তার (ডা.)’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ ও রুল:

গত বুধবার বিচারপতি আহসান উদ্দিন ও বিচারপতি মো. মনিরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই নির্দেশনা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদন ও শুনানি:

মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রি (BHMS) কোর্স বাস্তবায়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম উজ্জ্বল এবং বাংলাদেশ ইউনানি ও হোমিওপ্যাথিক ওষুধ আমদানী ও উৎপাদনকারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. নূরুজ্জামান। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার এ এম জিয়াউল হক।

আবেদনকারীদের যুক্তি:

রিট আবেদনে বলা হয়, হোমিওপ্যাথি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও বিশ্বব্যাপী প্রচলিত বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি। বাংলাদেশেও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন, ২০২৩ অনুযায়ী এই চিকিৎসা সেবা পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া, সরকার স্বীকৃত বিভিন্ন দেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা ‘ডাক্তার’ উপাধি ব্যবহার করে থাকেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ:

শুনানি শেষে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেন যে, হোমিওপ্যাথিসহ বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি পৃথক আইন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং এগুলোর সাথে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর কোনো যোগসূত্র নেই। ফলে, বিকল্প চিকিৎসকদের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা আইনসম্মত কি না—তা বিচারযোগ্য বিষয়।

রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান:

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।

ভবিষ্যৎ:

এই স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত বিকল্প চিকিৎসকরা তাদের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন। রুলের জবাব এবং পরবর্তী শুনানির পর এই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।