নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা সুনসারিতে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ সুনসারি এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করেছে। ভারতের সীমান্তবর্তী এই জেলায় গত রবিবার একটি হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রায় উচ্চ শব্দে গান বাজানো ও পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে সহিংসতায় রূপ নেয়।

চলতি বছরের মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ নাগরিকদের ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দেশে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, যতটা সম্ভব কম বলপ্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু হলেও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ নাগরিকদের ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। চলতি বছরের মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বড় ধরনের জাতির উদ্দেশে ভাষণ।