কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় চা দিতে দেরি হওয়ার ঘটনায় এক দপ্তরিকে কাপ-পিরিচ ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কৈয়ারবিল আইডিয়াল হাই স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হয়ে দপ্তরি রমজান আলী (৪৬) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী রমজান আলী জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জসীম উদ্দিন যখন ক্লাস চলছিল, তখন তাকে চা ও নাস্তা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই সময় রমজান আলী অন্যান্য শিক্ষকদের চা পরিবেশনে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ শিক্ষক জসীম ক্লাস শেষ না করেই সরাসরি কিচেনে চলে আসেন এবং চা দিতে দেরি হওয়ায় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি টেবিলের ওপর থাকা কাপ-পিরিচ রমজান আলীর দিকে ছুড়ে মারেন, যা সরাসরি তার মুখে আঘাত করে। এতে তার মুখ প্রায় এক ইঞ্চি পরিমাণ কেটে যায়। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রেফার করা হয়েছে।

আহত দপ্তরির ছোট ভাই দিদারুল ইসলাম কুতুবী জানান, তার ভাই রমজান আলী আগে থেকেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং অতীতে তার তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। একজন অসুস্থ কর্মীর ওপর শিক্ষকের এমন আচরণকে তিনি অমানবিক বলে মন্তব্য করেন। দিদারুল আরও দাবি করেন, এক বছর আগেও একই শিক্ষক তার ভাইকে মারধর করেছিলেন। সে সময় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো বিচার পাওয়া যায়নি। এবারের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো বিচার পাননি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক জসীম উদ্দিন বলেন, দপ্তরি রমজান বেয়াদব। আমি তাকে চায়ের কথা বলেছিলাম, দেরি করায় আমি কেবল জানতে চেয়েছি। তবে আমি কোনো কাপ-পিরিচ ছুড়ে মারিনি। সে কীভাবে আঘাত পেয়েছে তা আমি জানি না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসহাক হায়দার সোহেল জানান, দপ্তরি রমজান এমনিতেই অসুস্থতা নিয়ে চাকরি করছেন। ঘটনার সময় তিনি পাশে ছিলেন না। তবে একাধিক শিক্ষকের ভাষ্যমতে, সহকারী শিক্ষক জসীম উদ্দিন দপ্তরির সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য শিক্ষকদের নিয়ে বসে আলোচনা করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

আহত দপ্তরির ছোট ভাই দিদারুল ইসলাম কুতুবী বলেন, আগে তার ভাই ৩ বার অপারেশন হয়েছে। অসুস্থ একজন রোগীর ওপর শিক্ষকের এমন আক্রমণ অমানবিক। একবছর আগেও একই শিক্ষক তার ভাইকে মেরেছিল। লিখিত অভিযোগ দিলেও বিচার পাননি। এবারেও ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বিচার পাননি।