মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কয়েক হাজার মানুষের সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার মধ্যে অন্তত ৫৭ জন অভিবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর আগে সিউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস নিহতের সংখ্যা ৩৪ জন বলে জানিয়েছিলেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে মরক্কো থেকে সিউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। অনেক অভিবাসী সমুদ্রে সাঁতরে সীমান্তের বেড়া এড়িয়ে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর মরিয়া চেষ্টা করেন। সীমান্তে ভিড় সামাল দিতে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ব্যবহার করেছে এবং লোকজনকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এই সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ও একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার সিউতা সফর করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে স্পেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে সীমান্তে পৌঁছানো অভিবাসীদের দ্রুত মরক্কোতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, মানবপাচারকারী চক্র স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্তে জড়ো হয়েছে। তবে মরক্কোর মানবাধিকারকর্মীরা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের দাবি, অধিকাংশ অভিবাসী ওই আদালতের রায় সম্পর্কে অবগতই ছিলেন না।
এই ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এই পরিস্থিতিকে "অগ্রহণযোগ্য" বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম না মেনে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। তিনি বিপজ্জনকভাবে সীমান্ত পার হওয়া বন্ধ, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ইস্যুতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পেনের অবস্থানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। ফ্রান্স স্পেন ও মরক্কোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনে ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের মাধ্যমে সহায়তার প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া ফ্রান্স স্পেন সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি প্রয়োজনে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করার হুমকি দিয়েছেন, যদিও ইতালির সঙ্গে স্পেনের কোনো স্থলসীমান্ত নেই।
এদিকে সিউতার আঞ্চলিক সরকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়ে সীমান্তে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে অতিরিক্ত জনবল ও সরঞ্জাম পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে।