তীব্র তারল্য সংকট ও নজিরবিহীন ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারির মুখে পড়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত এস আলম গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) থেকে কারখানাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
কারখানা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয় এবং ১ আগস্ট থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। কাঁচামালের তীব্র সংকট, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে না পারা এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা জানান, কারখানার নোটিশ বোর্ডে ১ আগস্ট থেকে তালিকাভুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। হঠাৎ করে কর্মসংস্থান হারানোর খবরে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কারখানার ডিজিএম রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, যেহেতু উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, তাই কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন নিজ দায়িত্বে চলে যান।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই শিল্পগোষ্ঠীটির ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে বড় ধরনের ধস নামে। ব্যাংকগুলো থেকে আর্থিক সহায়তা না পাওয়া এবং মূলধন সংকটে নতুন এলসি খুলে কাঁচামাল আমদানি করতে ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত কারখানাগুলো গুটিয়ে নেওয়ার এই চরম সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।