আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, র্যাব-১ কার্যালয়ের গোপন বন্দিশালা ‘টিএফআই সেল’-এ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বর্ণনার ভিত্তিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে তিনি জানান। সালাহউদ্দিন আহমেদকে সেখানে আটকে রাখার পর তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার সকালে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিয়ে র্যাব-১ এর টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিচারকদের সরাসরি ঘটনাস্থল দেখানোর উদ্দেশ্যেই প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন। এই পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে লিপিবদ্ধ করা হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।
তদন্তকারীরা ওই ভবনে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষ শনাক্ত করেছেন। চিফ প্রসিকিউটর জানান, কিছু কক্ষ এতটাই সংকীর্ণ যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকা অসম্ভব। ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষে ব্যক্তিদের হাত ও চোখ বেঁধে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো এবং তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। ব্যারিস্টার আরমানকে যে কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল, সেটিও তদন্তকারীরা শনাক্ত করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আমিনুল ইসলাম আরও জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান মেলেনি, যাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী অন্যতম। তিনি অভিযোগ করেন, আয়নাঘরে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারার কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, গুম, নির্যাতন ও হত্যার মতো বিষয়গুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
পরিদর্শনের সময় ভবনের বিভিন্ন স্থানে নতুন দেয়াল তুলে আগের কাঠামো আড়াল করার চেষ্টার আলামত পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহের ভিত্তিতে দেয়াল অপসারণ করলে গোপন কক্ষগুলো বেরিয়ে আসে। চিফ প্রসিকিউটর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা প্রমাণ নষ্ট বা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন, তাদেরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে, মাঠপর্যায়ে যারা এই কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায় ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল এর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে অবস্থিত জেআইসি নামে আরেকটি গোপন আটককেন্দ্র পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধির রুল ৪৬এ, রোম সংবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন।
আইনগত বিষয় তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাউকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয় এবং গ্রেফতারের কারণ জানাতে হয়। একই বাধ্যবাধকতা রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারায়। কিন্তু আয়নাঘরে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক ও আইনি বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে