রাজধানীর কলাবাগান এলাকার কাঁঠালবাগানে পারিবারিক কলহের জেরে সাবেক জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে শাশুড়ি ও তার মেয়ে নিহত হয়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফিরোজা বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে ফারজানা আক্তার রাত্রি (২১)।

নিহত ফিরোজা বেগমের স্বামী ফারুক হোসেন জানান, সকাল ৯টার দিকে কলাবাগানের কাঁঠালবাগানের ভাড়া বাসায় এসে তাদের সাবেক জামাই শিপন অতর্কিতভাবে এই হামলা চালায়। ঘটনার সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিপন ফিরোজা বেগম ও ফারজানাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, মেয়ে ফারজানা আক্তার রাত্রি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ফারুক হোসেন আরও জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার বাদগাওয়ে। বর্তমানে তারা কলাবাগানের কাঁঠালবাগান আল-আমিন মসজিদ রোড এলাকার ৫২/২ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন। মেয়ের সঙ্গে শিপনের বিচ্ছেদের পর থেকেই সে ক্ষিপ্ত ছিল এবং এই বিরোধের জেরেই সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক চলাকালে শাশুড়ি মেয়ের পক্ষ নিলে ক্ষিপ্ত হয়ে শিপন তাদের ছুরিকাঘাত করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত হৃদয় ওরফে শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোঃ ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। এছাড়া, ঘটনার সময় শিপন তার এক বছরের ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে গেলেও বর্তমানে শিশুটিকে কলাবাগান থানায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।