২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর অন্যতম রক্তাক্ত এলাকা ছিল যাত্রাবাড়ী। এই এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনার বিচার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রবিবার যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ারে আয়োজিত এক গণশুনানিতে তিনি এ কথা বলেন।
গণশুনানিতে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজন, আহত ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। তারা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে যাত্রাবাড়ীতে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, তথ্য-প্রমাণ এবং বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর জানান, এখন পর্যন্ত যাত্রাবাড়ীতে শহীদদের প্রাথমিক তালিকায় ৮৫ জনের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীর সব হত্যাকাণ্ডের মামলা এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসেনি। যেসব মামলা স্থানীয় থানায় রয়েছে, সেগুলোকে ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া যেসব মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করবে। তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ীর হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং ট্রাইব্যুনাল এই বিচার দ্রুত শেষ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বর্তমানে যাত্রাবাড়ী-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর মধ্যে কেবল তাইয়ুম ভূঁইয়া হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে অন্যান্য মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা যাত্রাবাড়ীর গণহত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, ঘটনার প্রকৃত চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।