টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সীমানার ভেতর সব ধরনের হাউসবোট এবং পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’-এর আওতায় হাওরের শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, হাওরে চলাচলকারী সকল নৌযানের মালিক ও পরিচালনাকারীদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না থাকলে কোনো নৌযান হাওরে চালানো যাবে না। নিবন্ধন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য সুনামগঞ্জের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরের (এনডিসি) সাথে ০১৭৩০-৩৩১১০৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
হাওরের সুরক্ষায় বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার এবং যেকোনো ধরনের পার্টির আয়োজন নিষিদ্ধ করা। এছাড়া একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না এবং হাওরে কোনো বর্জ্য ফেলা যাবে না। প্রতিটি হাউসবোটে সেপটিক ট্যাংক, অন্তত দুটি ডাস্টবিন এবং পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌযানগুলোতে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটকদের সচেতনতার জন্য নৌযানের দৃশ্যমান স্থানে আচরণবিধি প্রদর্শন এবং জরুরি প্রয়োজনে প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের ফোন নম্বর ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনাবলি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং নিয়মিত তদারকি চালানো হবে।