ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার সদস্য দেশগুলো ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউরোপের ফুটবল মহলে তার নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ্য হওয়ার পর, কয়েকটি দেশ এখন সম্মিলিতভাবে তাদের দেওয়া সমর্থনপত্র (এন্ডোর্সমেন্ট) প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে, যা ইনফান্তিনোর ওপর পদত্যাগের চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে এই সংকট ঘনীভূত হয়। উয়েফার সদস্যভুক্ত কয়েকটি দেশ ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দিলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পর থেকেই ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনে তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকট তীব্র হয়েছে।
আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর প্রার্থিতার পক্ষে উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশের মধ্যে জার্মানি, রোমানিয়া ও নরওয়ে ছাড়া বাকি সবাই আগে সমর্থন জানিয়েছিল। সেই সময় সুইস এই ক্রীড়া প্রশাসকের টানা চতুর্থ মেয়াদ জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই গণ্য করা হতো। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে উয়েফার সদস্য দেশগুলো তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনা করছে। কোনো কোনো দেশ পর্যায়ক্রমে সমর্থন প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে, যা কার্যত ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ হিসেবেই বিবেচিত হবে। সমর্থনপত্র প্রত্যাহারের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফাকে অবহিত করতে হবে।
তবে ইনফান্তিনো বর্তমান পরিস্থিতিতে এখনই সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সদস্য ফুটবল সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে নিজের প্রতি সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউরোপের বাইরে অন্যান্য মহাদেশীয় ফুটবল কনফেডারেশনের ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। যদিও ইনফান্তিনোর বিতর্কিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে, তবুও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) কয়েকটি সদস্য দেশ প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। বর্তমানে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল প্রকাশ্যে তার পাশে রয়েছে।