একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং মা-বাবাকে নিয়ে ‘ঘৃণ্য বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। রোববার দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, অলি আহমেদের মতো একজন মানুষ তার সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে তার বাবা-মায়ের পরিচয় নিয়ে যে ধরনের ঘৃণ্য বক্তব্য দিয়েছেন, এরপর থেকে তিনি আর ন্যূনতম সম্মান পাওয়ার যোগ্য নন। তবে এর মধ্যেও তাকে সম্মান রেখেই কথা বলবেন বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খান।

রাশেদ খান অলি আহমেদের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, তিনি যেন সৎ সাহস থাকলে জানান যে গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট মাসুদ করিমের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকারের পতনের হুমকি দেওয়ার প্রেক্ষিতে মাসুদ করিমের সঙ্গে অলি আহমেদের সখ্যতা ও লেনদেনের বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছিল। এছাড়া রাশেদ খান বলেন, ‘আপনি আমাকে ‘র’ বা মোসাদের এজেন্ট বলেছেন। কিন্তু এই বাংলাদেশে আমরা যখন আধিপত্যবিরোধী সংগ্রাম করতে গিয়ে মার খেয়েছি, মামলা খেয়েছি, তখন আপনি হাসিনার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আপস করে বিরোধীদলের আন্দোলনকে ব্যর্থ করার ফাঁদে পা দিয়েছিলেন।’

বিএনপি ছেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে অলি আহমেদকে আক্রমণ করে রাশেদ খান লিখেন, জামায়াতের হাতে আসন তুলে দেওয়ার জন্য তিনি বিএনপি থেকে বেশি আসন চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি তদন্ত করে পায় যে, দুর্বল প্রার্থীদের কাছে এত আসন ছাড়লে তা জামায়াতের দখলে চলে যাবে। অলি আহমেদ যে জামায়াতের হয়ে কাজ করছিলেন, তার প্রমাণ হিসেবে জোটে তার যোগদানের বিষয়টি উল্লেখ করেন রাশেদ খান।

নিজের পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, তিনি কোনো বংশ বা মা-বাবার পরিচয়ে আজকের অবস্থানে আসেননি। একজন শ্রমিকের সন্তান হয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং ১৮ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। পোস্টের শেষ অংশে অলি আহমেদকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘একজন বর্ষীয়ান নেতা হয়েও আমার মা-বাবাকে নিয়ে ঘৃণ্য বক্তব্য দিয়ে আপনি নিজের বংশ ও জাত চেনালেন! জামায়াতে গেলে যে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না, আপনি (কর্নেল অলি আহমেদ) তার নিকৃষ্ট ও বাস্তব উদাহরণ।’

অলি আহমেদের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘মিস্টার কর্নেল অলি আহমেদ, আপনি ১ সপ্তাহের মধ্যে বিএনপি সরকারের পতনের হুমকি দেওয়ার প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট মাসুদ করিমের সঙ্গে আপনার সখ্যতা ও লেনদেনের বিষয়টি আমি সামনে এনেছি, যা সংবাদ ইতোপূর্বে প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এসেছিল।

আল্লাহর অশেষ রহমতে একজন শ্রমিকের সন্তান হয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা (আমার চৌদ্দ গোষ্ঠীর মধ্যে আমি একমাত্র গ্র্যাজুয়েট), ১৮-২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে একজন সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।’ পোস্টের শেষ অংশে কর্নেল অলি আহমেদকে আক্রমণ করে তিনি লেখেন, ‘একজন বর্ষীয়ান নেতা হয়েও আমার ম