রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় অবস্থিত নেপচুন অ্যাকসেসরিজ সলিউশন নামের একটি কারখানার সামনের রাস্তা কেটে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার উপকরণ প্রস্তুতকারী এই কারখানাটির সামনে ময়লা ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোববার ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার প্রবেশপথের রাস্তাটি খনন করা হয়েছে এবং খনন করা মাটির স্তূপ পাশে ফেলে রাখা হয়েছে।

ডিএনসিসির অঞ্চল-৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় পানিনিষ্কাশনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি নালা নির্মাণের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষের বাধার কারণে এতদিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, রোববারের ঘটনার পর কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সড়ক কেটে নালা নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই সড়কটি মেরামত করা হবে। তবে কারখানার কর্মীদের অভিযোগ, মালিকপক্ষকে ভোগান্তিতে ফেলতেই এই রাস্তা কাটা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজধানী ঢাকায় আধুনিক সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৩ সালে। তবে জমি অধিগ্রহণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি ধীর ছিল। ২০১৫ সালে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে আনিসুল হকের দায়িত্ব নেওয়ার পর এসটিএস নির্মাণ ও সম্প্রসারণে গতি আসে। ২০১৬ সালে উত্তর সিটিতে ৩৯টি এসটিএস চালু ছিল এবং আরও ৯টির নির্মাণ চলছিল। এসটিএসে মূলত অস্থায়ী ভিত্তিতে বাসাবাড়ি থেকে আনা ময়লা-আবর্জনা জমা করে রাখা হয়।

কারখানা ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে এই দ্বন্দ্বের মূলে রয়েছে কারখানার সামনে অবস্থিত একটি অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (এসটিএস)। ২০২৩ সালে নির্মিত এই এসটিএসের দুর্গন্ধের কারণে কারখানায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে এসটিএসের ভেতরে ময়লা ফেলা বন্ধ হওয়ার পর, সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কারখানার সামনের সড়কে ময়লা জমা করতে শুরু করেন। গ্রাফিকস বিভাগের এক কর্মীর দাবি, অনেকবার আপত্তি জানানো সত্ত্বেও এই অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। সোমবার দুপুরেও এসটিএসের কর্মীরা সরকারি সড়কের ওপর ময়লা ফেলতে দেখা যায়।

রোববারের ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন কারখানার একজন ব্যবস্থাপক সড়কে ময়লা ফেলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে বিকেলে প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান। সে সময় কারখানার মালিকপক্ষের ‘ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা’ তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে কারখানার কর্মীদের দাবি, মালিককে হেনস্তা করা হচ্ছিল বলেই শ্রমিকরা তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছিলেন। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ডিএনসিসি বাদী হয়ে মামলা করেছে এবং এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে সিটি করপোরেশনের একটি এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র) ব্যবহার করে রাস্তাটি কাটা হয়। নগর–পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান এই পরিস্থিতির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, এসটিএস স্থাপনের ক্ষেত্রে রাজউকের মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা উচিত ছিল। অপরিকল্পিতভাবে এসটিএস স্থাপনের কারণেই জনভোগান্তি ও স্থানীয় বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।