জোরপূর্বক শ্রমের অজুহাতে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা নতুন শুল্কের বৈধতা বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই শুল্কের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন ২৫টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) এই মামলাটি করা হয়।
মামলার আবেদনে আদালতের কাছে শুল্ক বাস্তবায়ন অবিলম্বে স্থগিত করা, এটিকে বেআইনি ঘোষণা করা এবং আদায়কৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, এই নতুন শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের কথিত সমস্যার সঙ্গে ইউএসটিআরের এই একচেটিয়া বৈশ্বিক শুল্কের কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক নেই বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া তদন্তগুলো তাড়াহুড়ো করে শুরু করা হয়েছিল এবং ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির অভিযোগ এনে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন, যা ঘোষণার দিন থেকেই কার্যকর হয়। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের (ইউএসটিআর) ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। একই হার প্রযোজ্য হয়েছে ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ওপর। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও ফিলিপাইনের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা প্রয়োগ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মামলার সঙ্গে যুক্ত ২৫টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টির গভর্নর ডেমোক্র্যাট এবং বাকি দুটি রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন। রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সব ধরনের জোরপূর্বক শ্রমের বিরোধী এবং বিশ্বে শ্রমিকদের সুরক্ষার পক্ষে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রমকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোনোভাবেই বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী শুল্ক পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে পারে না। এদিকে এই মামলার জবাবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সরকারের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ আইনসিদ্ধ। মার্কিন বাণিজ্যের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ানো অযৌক্তিক কাজ, নীতি ও চর্চা বন্ধ করতেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।