মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক হিসেবে প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের নেতৃত্বে শিক্ষা প্রশাসনে নতুন করে গতিশীলতা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সচলতা ফিরে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ১৬ এপ্রিলের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত মহাপরিচালকের অনুপস্থিতিতে যে নেতৃত্ব সংকট ও প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, ড. সোহেলের দায়িত্ব গ্রহণের পর তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
বিসিএস ১৬তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিনের শিক্ষা প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অধিকারী। কর্মজীবনের শুরুতে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি কলেজেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে তিনি বঞ্চনার শিকার হয়েছিলেন।
বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খান বলেন, শিক্ষা প্রশাসনকে পুনর্গঠন এবং সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে ড. সোহেলের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাঠপর্যায়ে শিক্ষকতা এবং শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
ড. সোহেলের শিক্ষাজীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তিনি ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি ইউজিসি ফেলোশিপও লাভ করেছেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাউশির মাধ্যমিক পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি শিক্ষা ক্যাডার সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হন।
তবে তাকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা ও প্রচারণা নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হলো, শিক্ষা প্রশাসনের চলমান সংস্কার কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নিতে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।