পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসাস্থল খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দীর্ঘ আট বছরেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে এর অগ্রগতি মাত্র ৭৫ শতাংশ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি এবং গণপূর্ত বিভাগের ঢিলেঢালা পদক্ষেপের কারণে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা এখন মারাত্মক সংকটে পড়েছে।
বর্তমানে ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ২ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী (২৩০ জন) সার্বক্ষণিক ভর্তি থাকায় স্থান সংকুলান হচ্ছে না। ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা এবং ড্রেনের পাশের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলা ছাড়াও প্রতিবেশী রাঙামাটির লংগদু ও বাঘাইছড়ি এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর একমাত্র প্রধান চিকিৎসাস্থল এটি।
নতুন ভবনটি চালু না হওয়ায় আধুনিক আইসিইউ, কিডনি ডায়ালাইসিস ও উন্নত ডায়াগনস্টিক সেবা চালু করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়াও আটকে আছে। এই দীর্ঘসূত্রতার পেছনে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সেলিম এন্টারপ্রাইজ’-এর গাফিলতি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি বা প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল নোটিশ পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।
পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মৌলিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও শিক্ষক, অবকাঠামো ও বরাদ্দের অভাবে পিছিয়ে রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেবল ভৌগোলিক এলাকা হিসেবে না দেখে এখানকার মানুষের নাগরিক অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের নতুন ভবন দ্রুত শেষ করে জরুরি জীবনরক্ষাকারী সেবাগুলো অবিলম্বে চালু করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।