আগামী ২১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবং রানার্সআপ আবাহনী লিমিটেডের আসন্ন মৌসুমে অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাব দুটি এখনো দল বদলের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি। নতুন মৌসুমে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে ক্লাবগুলোকে অবশ্যই ফিফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হতে হবে এবং ক্লাব লাইসেন্সিং নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের জন্য সময়সীমা বাড়িয়ে ৭ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে, যা আগে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ছিল। তবে এই সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। নতুন মৌসুমের দলবদলের শেষ তারিখ ১৩ আগস্ট। এর আগে ফিফা নিষেধাজ্ঞার কারণে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগেও অংশ নিতে পারেনি।

আবাহনী লিমিটেডের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু অবশ্য আশাবাদী। তিনি জানান, তাদের ওপর থাকা তিনটি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দুটি ইতিমধ্যে উঠে গেছে। তৃতীয়টির বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং আগামী সপ্তাহে তা সুরাহার আশা করছেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে নামিবিয়া, ঘানা ও সিরিয়ার তিন ফুটবলারের সাথে চুক্তির জেরে এই জটিলতা তৈরি হয়। দেশটিতে গণঅভ্যুত্থানের পর ক্লাবটি সংকটে পড়লে চুক্তি বাতিল হয়, কিন্তু বিদেশি খেলোয়াড়রা ফিফার কাছে অভিযোগ জানায়। নামিবিয়া ও ঘানার খেলোয়াড়দের সাথে সমঝোতা হলেও সিরিয়ার খেলোয়াড়ের সাথে আলোচনা এখনো চলমান।

বসুন্ধরা কিংসের পরিস্থিতি আরও জটিল। তাদের বিরুদ্ধে ফিফায় ১১টি অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ক্লাবের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি হওয়ায় বাফুফেও কিছুটা বিপাকে পড়েছে। কিংসের খেলোয়াড়রাও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন।

ফিফার বিধি অনুযায়ী অন্তত ১০টি ক্লাব নিয়ে লিগ আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বাফুফে অবনমন হওয়া ফকিরেরপুল ও আরামবাগ ক্লাবকে নতুন মৌসুমে খেলানোর পরিকল্পনা করেছে। তবে ফকিরেরপুলের বিরুদ্ধেও দুটি অভিযোগ রয়েছে, যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। যদি শেষ পর্যন্ত বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী অংশ নিতে না পারে, তবে বাফুফে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে।