ইসলাম নারীকে যে মর্যাদা দিয়েছে
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ডেস্ক রিপোর্ট:
বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় যুগে যুগে নারীকে কখনো অবহেলার চোখে, কখনো ভোগের বস্তু হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু ইসলাম নারীকে দিয়েছে সম্মান, নিরাপত্তা ও পূর্ণ মানবিক মর্যাদা। ১৪ শতাব্দী আগে ইসলামের আগমনের মাধ্যমে নারী প্রথমবারের মতো সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়।
কন্যা হিসেবে মর্যাদা
ইসলামের পূর্ববর্তী আরব সমাজে কন্যাসন্তানকে লজ্জা মনে করে জীবিত কবর দেওয়ার মতো নির্মম প্রথা চালু ছিল। ইসলাম সেই অমানবিকতা বন্ধ করে কন্যাসন্তানকে আল্লাহর রহমত হিসেবে ঘোষণা করে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কন্যাসন্তানকে স্নেহ ও যত্নে বড় করবে, সে জান্নাতের অধিকারী হবে।
মা হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান
ইসলামে মায়ের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। এক সাহাবি জিজ্ঞাসা করলে রাসুল (সা.) তিনবার বলেন, “তোমার মা”, এরপর বলেন “তোমার পিতা।” এর মাধ্যমে ইসলামে মায়ের অধিকার ও সম্মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে স্থান পেয়েছে।
স্ত্রী হিসেবে অধিকার ও নিরাপত্তা
ইসলাম নারীকে স্ত্রী হিসেবে ভালোবাসা, সম্মান ও নিরাপত্তার অধিকার দিয়েছে। বিবাহে নারীর সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং দেনমোহরের মাধ্যমে তার আর্থিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বামীর ওপর স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্বও ইসলাম নির্ধারণ করেছে।
উত্তরাধিকার ও সম্পদের অধিকার
ইসলাম নারীকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী করেছে, যা অনেক সমাজে দীর্ঘদিন নারীদের বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। নারী নিজস্ব সম্পদের মালিক হতে পারে এবং তা ব্যবহারে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে।
শিক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা
ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শিক্ষা গ্রহণ ফরজ করা হয়েছে। ইতিহাসে দেখা যায়, ইসলামি সভ্যতায় বহু নারী শিক্ষাবিদ, হাদিস বিশারদ ও সমাজসংস্কারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
উপসংহার
ইসলাম নারীকে কোনো দুর্বল বা অবহেলিত সত্তা হিসেবে নয়, বরং একজন সম্মানিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পারিবারিক শান্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করাই ইসলামের অন্যতম শিক্ষা।
ক্রাইম ওয়াচ ২৪ বিডি ডেস্ক 




















