০৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবিকার লড়াই নাকি চাঁদার ফাঁদ? বিমানবন্দর এলাকায় ভাসমান ফলের বাজার

( ঢাকা) প্রতিনিধি | রাজধানী

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের ওপর গড়ে উঠেছে ব্যস্ত ও জমজমাট ভাসমান ফলের বাজার। প্রতিদিন শতাধিক ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় এলাকাটি হয়ে উঠেছে ছোটখাটো এক অনানুষ্ঠানিক হাট। তবে এই বাজারের আড়ালে চলছে চাঁদাবাজির অভিযোগ—যেখানে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।
সরাসরি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে বসানো ফলের দোকান—আপেল, কমলা, কলা, আঙ্গুরসহ নানা ধরনের মৌসুমি ফল বিক্রি হচ্ছে। রঙিন ছাতা টাঙিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী দোকান। ক্রেতাদের ভিড়ও কম নয়।
একাধিক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান এখানে দোকান বসাতে হলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু লোককে টাকা দিতে হয়। না দিলে দোকান বসতে দেয় না, এমনকি হুমকিও দেয়।
তাদের দাবি, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা তাদের লাভের একটি বড় অংশ কেটে নিচ্ছে। এতে করে অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ জমছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চাঁদাবাজির পেছনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
এদিকে রেললাইনের ওপর এভাবে বাজার বসানোয় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

রেললাইন একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এখানে অবৈধভাবে বাজার বসানো যেমন বিপজ্জনক, তেমনি চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ বাজার উচ্ছেদ ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারেন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

বিমানবন্দর এলাকার এই ভাসমান বাজার এখন যেমন জীবিকার মাধ্যম, তেমনি এটি হয়ে উঠেছে অনিয়ম ও ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দু—যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা সামাজিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে শতাধিক গরুকে এলএসডি ভ্যাকসিন প্রদান, খামারিদের নিয়ে উঠান বৈঠক

জীবিকার লড়াই নাকি চাঁদার ফাঁদ? বিমানবন্দর এলাকায় ভাসমান ফলের বাজার

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

( ঢাকা) প্রতিনিধি | রাজধানী

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের ওপর গড়ে উঠেছে ব্যস্ত ও জমজমাট ভাসমান ফলের বাজার। প্রতিদিন শতাধিক ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় এলাকাটি হয়ে উঠেছে ছোটখাটো এক অনানুষ্ঠানিক হাট। তবে এই বাজারের আড়ালে চলছে চাঁদাবাজির অভিযোগ—যেখানে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।
সরাসরি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে বসানো ফলের দোকান—আপেল, কমলা, কলা, আঙ্গুরসহ নানা ধরনের মৌসুমি ফল বিক্রি হচ্ছে। রঙিন ছাতা টাঙিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী দোকান। ক্রেতাদের ভিড়ও কম নয়।
একাধিক বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান এখানে দোকান বসাতে হলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু লোককে টাকা দিতে হয়। না দিলে দোকান বসতে দেয় না, এমনকি হুমকিও দেয়।
তাদের দাবি, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা তাদের লাভের একটি বড় অংশ কেটে নিচ্ছে। এতে করে অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ জমছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চাঁদাবাজির পেছনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
এদিকে রেললাইনের ওপর এভাবে বাজার বসানোয় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

রেললাইন একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এখানে অবৈধভাবে বাজার বসানো যেমন বিপজ্জনক, তেমনি চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ বাজার উচ্ছেদ ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারেন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

বিমানবন্দর এলাকার এই ভাসমান বাজার এখন যেমন জীবিকার মাধ্যম, তেমনি এটি হয়ে উঠেছে অনিয়ম ও ঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দু—যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা সামাজিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।