০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুতিঘাটায় নুর পাম্পের ‘ড্রাম বাণিজ্যে’ বিপাকে কৃষক ও চালকরা

অনলাইন ডেস্ক নিউজ:

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সারাদেশ যখন জ্বালানি সাশ্রয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তখন যশোরের রামনগর ইউনিয়নের সুতিঘাটা এলাকায় সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কাই করছে না ‘নুর পেট্রোল পাম্প’। লাইসেন্সবিহীন টলি আর শত শত ড্রামে তেল সরবরাহের মাধ্যমে পাম্পটিতে চলছে এক অঘোষিত ‘তেল উৎসব’, যার বলি হচ্ছেন সাধারণ ট্রাক চালক ও বোরো চাষিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে ট্রাকের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ডিজেল। চালকদের অভিযোগ, তাদের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল দিচ্ছে না। অথচ পাম্পের ভেতরে দেদারসে ড্রাম ভর্তি করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী এক ট্রাক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:”আমরা লাইসেন্স নিয়ে রোদে পুড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের তেল দেয় না। অথচ তাদের পরিচিত লোকরা ড্রাম নিয়ে আসছে আর চোখের সামনেই সব তেল নিয়ে যাচ্ছে।”

সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বোরো মৌসুমের এই শেষ সময়ে জমিতে সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পাম্পে গেলে মিলছে কেবল ‘নেই’ শব্দ অথবা চাহিদার তুলনায় যৎসামান্য তেল। কৃষকদের আশঙ্কা, আর কয়েকদিন পর ধান পাকতে শুরু করবে; এই মুহূর্তে পানি দিতে না পারলে ফলন বিপর্যয় ঘটবে এবং ধান চিটা হয়ে যাবে। কৃষকরা প্রশ্ন তুলেছেন— বহিরাগতরা ড্রামে করে তেল পেলেও কেন সেচের জন্য কৃষকরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন না?

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে পাম্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন। এমনকি পাম্পের ম্যানেজারকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পাম্প তদারকির জন্য লোক থাকার কথা থাকলেও নুর পাম্পে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ভিডিও ফুটেজসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের পাহাড় জমলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর অভিযান বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খবর পাওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা পাম্প কর্তৃপক্ষের অনিয়মকে আরও উসকে দিচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও কৃষকের ক্ষতি— উভয়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

জনপ্রিয় অভিনেত্রী বন্যা মির্জার বাবা মির্জা ফারুকের ইন্তেকাল

সুতিঘাটায় নুর পাম্পের ‘ড্রাম বাণিজ্যে’ বিপাকে কৃষক ও চালকরা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক নিউজ:

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সারাদেশ যখন জ্বালানি সাশ্রয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তখন যশোরের রামনগর ইউনিয়নের সুতিঘাটা এলাকায় সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কাই করছে না ‘নুর পেট্রোল পাম্প’। লাইসেন্সবিহীন টলি আর শত শত ড্রামে তেল সরবরাহের মাধ্যমে পাম্পটিতে চলছে এক অঘোষিত ‘তেল উৎসব’, যার বলি হচ্ছেন সাধারণ ট্রাক চালক ও বোরো চাষিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে ট্রাকের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ডিজেল। চালকদের অভিযোগ, তাদের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল দিচ্ছে না। অথচ পাম্পের ভেতরে দেদারসে ড্রাম ভর্তি করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী এক ট্রাক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:”আমরা লাইসেন্স নিয়ে রোদে পুড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের তেল দেয় না। অথচ তাদের পরিচিত লোকরা ড্রাম নিয়ে আসছে আর চোখের সামনেই সব তেল নিয়ে যাচ্ছে।”

সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বোরো মৌসুমের এই শেষ সময়ে জমিতে সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পাম্পে গেলে মিলছে কেবল ‘নেই’ শব্দ অথবা চাহিদার তুলনায় যৎসামান্য তেল। কৃষকদের আশঙ্কা, আর কয়েকদিন পর ধান পাকতে শুরু করবে; এই মুহূর্তে পানি দিতে না পারলে ফলন বিপর্যয় ঘটবে এবং ধান চিটা হয়ে যাবে। কৃষকরা প্রশ্ন তুলেছেন— বহিরাগতরা ড্রামে করে তেল পেলেও কেন সেচের জন্য কৃষকরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন না?

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে পাম্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন। এমনকি পাম্পের ম্যানেজারকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পাম্প তদারকির জন্য লোক থাকার কথা থাকলেও নুর পাম্পে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে ভিডিও ফুটেজসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের পাহাড় জমলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর অভিযান বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খবর পাওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা পাম্প কর্তৃপক্ষের অনিয়মকে আরও উসকে দিচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও কৃষকের ক্ষতি— উভয়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।