০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষক পরিবারের মেয়েকে অপহরণ, মেয়ের ছবি হাতে অঝোরে কাঁদছেন বাবা-মা

কৃষক পরিবারের মেয়েকে অপহরণ, মেয়ের ছবি হাতে অঝোরে কাঁদছেন বাবা-মা

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

আমি কিচ্ছু চাই না, শুধু আমার মেয়েটাকে ফেরত চাই। কতোদিন হলো মেয়েটার মুখ দেখি না। বুকটা ফেটে যাচ্ছে। এভাবে কথাগুলো বলতে বলতেই মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষক আলতাফ মন্ডল।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার এই কৃষক পরিবারের দাবি, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে তাদের মাদরাসা পড়ুয়া মেয়ে খুকুমণি (১৫)কে অপহরণ করা হয়েছে। তবে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে গত ৩ এপ্রিল। মামলা হলেও এখন পর্যন্ত মেয়ের কোনো খোঁজ মেলেনি, গ্রেফতার হয়নি অভিযুক্তরাও। ফলে চরম হতাশা ও আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারটির।

কৃষক আলতাফ মন্ডল বলেন,গরীব মানুষ বলে কি আমরা বিচার পাবো না? আমার মেয়েটা কোথায় আছে, কি অবস্থায় আছে কিছুই জানি না। শুধু একবার মেয়েটাকে দেখতে চাই।

খুকুমণির মা সাহেরা বেগম বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে। থানা আর কোর্টে মামলা করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হলো না। আমার মেয়েটা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে সেটাও জানি না। আমি শুধু আমার মেয়েকে ফিরে চাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে উলিপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন সাহেরা বেগম। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ওই এলাকার হৃদয় হোসেন, মজিবর রহমান, মজিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও ছালমা বেগমকে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মিয়া বলেন, একটি কৃষক পরিবারের মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতদিনেও বিচার না পাওয়া খুবই দুঃখজনক। আমরা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও মেয়েটিকে উদ্ধারের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে সাহেবের আলগা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে কাজ করছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বাদীপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এদিকে প্রতিদিন মেয়ের একটি ছবি হাতে নিয়ে অপেক্ষা করেন বাবা-মা। কখন দরজায় কড়া নাড়বে তাদের আদরের খুকুমণি, সেই আশাতেই দিন গুনছে অসহায় কৃষক পরিবারটি।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে শতাধিক গরুকে এলএসডি ভ্যাকসিন প্রদান, খামারিদের নিয়ে উঠান বৈঠক

কৃষক পরিবারের মেয়েকে অপহরণ, মেয়ের ছবি হাতে অঝোরে কাঁদছেন বাবা-মা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

কৃষক পরিবারের মেয়েকে অপহরণ, মেয়ের ছবি হাতে অঝোরে কাঁদছেন বাবা-মা

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

আমি কিচ্ছু চাই না, শুধু আমার মেয়েটাকে ফেরত চাই। কতোদিন হলো মেয়েটার মুখ দেখি না। বুকটা ফেটে যাচ্ছে। এভাবে কথাগুলো বলতে বলতেই মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষক আলতাফ মন্ডল।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার এই কৃষক পরিবারের দাবি, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে তাদের মাদরাসা পড়ুয়া মেয়ে খুকুমণি (১৫)কে অপহরণ করা হয়েছে। তবে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে গত ৩ এপ্রিল। মামলা হলেও এখন পর্যন্ত মেয়ের কোনো খোঁজ মেলেনি, গ্রেফতার হয়নি অভিযুক্তরাও। ফলে চরম হতাশা ও আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারটির।

কৃষক আলতাফ মন্ডল বলেন,গরীব মানুষ বলে কি আমরা বিচার পাবো না? আমার মেয়েটা কোথায় আছে, কি অবস্থায় আছে কিছুই জানি না। শুধু একবার মেয়েটাকে দেখতে চাই।

খুকুমণির মা সাহেরা বেগম বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে। থানা আর কোর্টে মামলা করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হলো না। আমার মেয়েটা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে সেটাও জানি না। আমি শুধু আমার মেয়েকে ফিরে চাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে উলিপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন সাহেরা বেগম। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ওই এলাকার হৃদয় হোসেন, মজিবর রহমান, মজিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও ছালমা বেগমকে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মিয়া বলেন, একটি কৃষক পরিবারের মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতদিনেও বিচার না পাওয়া খুবই দুঃখজনক। আমরা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও মেয়েটিকে উদ্ধারের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে সাহেবের আলগা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে কাজ করছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বাদীপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এদিকে প্রতিদিন মেয়ের একটি ছবি হাতে নিয়ে অপেক্ষা করেন বাবা-মা। কখন দরজায় কড়া নাড়বে তাদের আদরের খুকুমণি, সেই আশাতেই দিন গুনছে অসহায় কৃষক পরিবারটি।