০৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসক যখন খলনায়ক: শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল মামলায় ডা. রাফসান জানি গ্রেফতার

চিকিৎসক যখন খলনায়ক: শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল মামলায় ডা. রাফসান জানি গ্রেফতার

মেহেদী হাসান রিপন, স্টাফ রিপোর্টার:

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পড়াশোনা ও সন্তানদের দেখভালের নামে নিজের আশ্রয়ে এনে শ্যালিকাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং সবশেষে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাসে আটকে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ডা. রাফসান জানি। তিনি যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

শনিবার (২৩ মে) রাতে যশোর শহরের উপশহর এলাকার নিজ বাসভবন থেকে মণিরামপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আস্থার আড়ালে ভয়ঙ্কর রূপ

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত প্রায় তিন বছর আগে। ভালো পরিবেশে পড়াশোনা এবং সন্তানদের দেখভালের অজুহাতে শ্যালিকাকে যশোরে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন ডা. রাফসান জানি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাসায় আসার কিছুদিন পর তাকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন রাফসান এবং সেই ঘটনার একটি আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখেন।

পরবর্তীতে সেই ভিডিওটিই ভুক্তভোগীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবত তাকে ব্ল্যাকমেইল ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে মণিরামপুরে একটি বাসা ভাড়া নেন ওই চিকিৎসক। সেখানে তাকে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস ও নানাবিধ ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আত্মগোপন ও নাটকীয় গ্রেফতার

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে মণিরামপুর থানায় দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শ্যালিকা। মামলা হওয়ার পর থেকেই সুচতুর এই চিকিৎসক গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজলেও কোনো হদিস মিলছিল না। অবশেষে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে তার উপশহরের বাসভবন ঘেরাও করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

অপরাধের দীর্ঘ খতিয়ান ও জনক্ষোভ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. রাফসান জানির অপরাধের খতিয়ান এখানেই শেষ নয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দুই সাংবাদিকও তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে রেখেছেন।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:

সেবা ও মানবিকতার প্রতীক ‘চিকিৎসক’ পেশার একজনের এমন কলঙ্কিত অধ্যায় প্রকাশ্যে আসায় পুরো যশোর জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মণিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তে সব ধরণের তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে শতাধিক গরুকে এলএসডি ভ্যাকসিন প্রদান, খামারিদের নিয়ে উঠান বৈঠক

চিকিৎসক যখন খলনায়ক: শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল মামলায় ডা. রাফসান জানি গ্রেফতার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৫১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

চিকিৎসক যখন খলনায়ক: শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল মামলায় ডা. রাফসান জানি গ্রেফতার

মেহেদী হাসান রিপন, স্টাফ রিপোর্টার:

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পড়াশোনা ও সন্তানদের দেখভালের নামে নিজের আশ্রয়ে এনে শ্যালিকাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং সবশেষে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাসে আটকে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ডা. রাফসান জানি। তিনি যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

শনিবার (২৩ মে) রাতে যশোর শহরের উপশহর এলাকার নিজ বাসভবন থেকে মণিরামপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আস্থার আড়ালে ভয়ঙ্কর রূপ

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত প্রায় তিন বছর আগে। ভালো পরিবেশে পড়াশোনা এবং সন্তানদের দেখভালের অজুহাতে শ্যালিকাকে যশোরে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন ডা. রাফসান জানি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাসায় আসার কিছুদিন পর তাকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন রাফসান এবং সেই ঘটনার একটি আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ধারণ করে রাখেন।

পরবর্তীতে সেই ভিডিওটিই ভুক্তভোগীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবত তাকে ব্ল্যাকমেইল ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে মণিরামপুরে একটি বাসা ভাড়া নেন ওই চিকিৎসক। সেখানে তাকে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস ও নানাবিধ ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আত্মগোপন ও নাটকীয় গ্রেফতার

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে মণিরামপুর থানায় দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শ্যালিকা। মামলা হওয়ার পর থেকেই সুচতুর এই চিকিৎসক গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজলেও কোনো হদিস মিলছিল না। অবশেষে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে তার উপশহরের বাসভবন ঘেরাও করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

অপরাধের দীর্ঘ খতিয়ান ও জনক্ষোভ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. রাফসান জানির অপরাধের খতিয়ান এখানেই শেষ নয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দুই সাংবাদিকও তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে রেখেছেন।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া:

সেবা ও মানবিকতার প্রতীক ‘চিকিৎসক’ পেশার একজনের এমন কলঙ্কিত অধ্যায় প্রকাশ্যে আসায় পুরো যশোর জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মণিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তে সব ধরণের তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।