লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে চলছে ভয়ংকর গোপন কারাগার

দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থাকলেও সেগুলোর বেশির ভাগই এখন সাইনবোর্ডসর্বস্ব। চিকিৎসা সেবার বালাই না থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানে দিনের পর দিন রোগীকে বন্দি রেখে চালানো হয় মারধর ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। চিকিৎসা দেওয়ার নামে মাদক ব্যবসাও চলছে এসব প্রতিষ্ঠানে। ভর্তির পর বিভিন্ন অজুহাতে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়, এমনকি সুস্থ করার নামে মাদক কেনার টাকা দিতেও বাধ্য করা হয় তাদের।

নিরাময় কেন্দ্রগুলোর অন্দরমহল হয়ে উঠেছে গোপন কারাগার। সম্পর্কের টানাপোড়েন বা সম্পত্তির বিরোধ মেটাতে এখন ‘ক্যাচিং পার্টি’ নামে বিশেষ টিম ভাড়া করা হয়। অর্থের বিনিময়ে সুস্থ মানুষকে মাদকাসক্ত সাজিয়ে বন্দি করে রাখে তারা। যুগান্তরের অনুসন্ধানে রাজধানীর গুলশানের ২৩/এ সড়কের চার নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত ‘বীকন পয়েন্ট’ নামের একটি ভিআইপি নিরাময় কেন্দ্রে এমন চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে অন্তত ৩ মাসের চিকিৎসা বাবদ দৈনিক ২০ হাজার টাকা ফি নেওয়া হয়, যেখানে রোগীর সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা ছদ্মবেশে ২৫ জুলাই বিকাল ৫টায় যুগান্তরের অনুসন্ধান সেলের প্রধানসহ তিন সদস্য বীকন পয়েন্টে হাজির হন। ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় সেখানে প্রবেশের সময় দেহ তল্লাশি করে মোবাইল ফোন, কলম, ঘড়িসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী জমা রাখা হয়। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় নিরাময়কেন্দ্রের বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টিত রেড জোনে। সেখানে অন্তত ২৪ ঘণ্টা থাকার পর দেখা যায়, মূল চিকিৎসাকেন্দ্র বা রেড জোনের অবস্থান ভবনের তৃতীয় তলায়। সেখানে ঢোকানোর পরপরই কারাগারের মতো বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। জায়গাটির চারপাশ পর্দা ঘেরা। বাইরে আলো-বাতাস এমনকি শব্দ পর্যন্ত ঢোকার ব্যবস্থা নেই। এমন বদ্ধ পরিবেশে কিছুক্ষণ থাকার পর উৎকট গন্ধে গা গুলিয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৯টায় খাবারের ডাক পড়ে, পাতে জোটে এক টুকরো মাছ, ডাল আর দুর্গন্ধযুক্ত ভাত। খাবার শেষে চতুর্থ তলার ছোট একটি কক্ষে ধূমপানের ব্যবস্থা, যেখানে অন্তত ২০ জনের জটলা দেখা যায়। ভবনের তৃতীয় এবং চতুর্থ তলা ঘুরে দেখা যায়, একেকটি কক্ষে ৩-৪ জন করে থাকার ব্যবস্থা। এদের মধ্যে মাত্র ২১ বছর বয়সি এক তরুণকে বন্দি রেখেছে তার পরিবার। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় মাদক চক্রের গোপন আস্তানায় গিয়ে সাপের ছোবল নিতেন তিনি। প্রতিবার ছোবল নিতে ১৫ হাজার টাকা লাগে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিছু নারী কেন সাধারণের চেয়ে বেশি রং দেখতে পান?

মাদক নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে চলছে ভয়ংকর গোপন কারাগার

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪৭:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র থাকলেও সেগুলোর বেশির ভাগই এখন সাইনবোর্ডসর্বস্ব। চিকিৎসা সেবার বালাই না থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানে দিনের পর দিন রোগীকে বন্দি রেখে চালানো হয় মারধর ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। চিকিৎসা দেওয়ার নামে মাদক ব্যবসাও চলছে এসব প্রতিষ্ঠানে। ভর্তির পর বিভিন্ন অজুহাতে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়, এমনকি সুস্থ করার নামে মাদক কেনার টাকা দিতেও বাধ্য করা হয় তাদের।

নিরাময় কেন্দ্রগুলোর অন্দরমহল হয়ে উঠেছে গোপন কারাগার। সম্পর্কের টানাপোড়েন বা সম্পত্তির বিরোধ মেটাতে এখন ‘ক্যাচিং পার্টি’ নামে বিশেষ টিম ভাড়া করা হয়। অর্থের বিনিময়ে সুস্থ মানুষকে মাদকাসক্ত সাজিয়ে বন্দি করে রাখে তারা। যুগান্তরের অনুসন্ধানে রাজধানীর গুলশানের ২৩/এ সড়কের চার নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত ‘বীকন পয়েন্ট’ নামের একটি ভিআইপি নিরাময় কেন্দ্রে এমন চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে অন্তত ৩ মাসের চিকিৎসা বাবদ দৈনিক ২০ হাজার টাকা ফি নেওয়া হয়, যেখানে রোগীর সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা ছদ্মবেশে ২৫ জুলাই বিকাল ৫টায় যুগান্তরের অনুসন্ধান সেলের প্রধানসহ তিন সদস্য বীকন পয়েন্টে হাজির হন। ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় সেখানে প্রবেশের সময় দেহ তল্লাশি করে মোবাইল ফোন, কলম, ঘড়িসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী জমা রাখা হয়। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় নিরাময়কেন্দ্রের বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টিত রেড জোনে। সেখানে অন্তত ২৪ ঘণ্টা থাকার পর দেখা যায়, মূল চিকিৎসাকেন্দ্র বা রেড জোনের অবস্থান ভবনের তৃতীয় তলায়। সেখানে ঢোকানোর পরপরই কারাগারের মতো বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। জায়গাটির চারপাশ পর্দা ঘেরা। বাইরে আলো-বাতাস এমনকি শব্দ পর্যন্ত ঢোকার ব্যবস্থা নেই। এমন বদ্ধ পরিবেশে কিছুক্ষণ থাকার পর উৎকট গন্ধে গা গুলিয়ে ওঠে। রাত সাড়ে ৯টায় খাবারের ডাক পড়ে, পাতে জোটে এক টুকরো মাছ, ডাল আর দুর্গন্ধযুক্ত ভাত। খাবার শেষে চতুর্থ তলার ছোট একটি কক্ষে ধূমপানের ব্যবস্থা, যেখানে অন্তত ২০ জনের জটলা দেখা যায়। ভবনের তৃতীয় এবং চতুর্থ তলা ঘুরে দেখা যায়, একেকটি কক্ষে ৩-৪ জন করে থাকার ব্যবস্থা। এদের মধ্যে মাত্র ২১ বছর বয়সি এক তরুণকে বন্দি রেখেছে তার পরিবার। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় মাদক চক্রের গোপন আস্তানায় গিয়ে সাপের ছোবল নিতেন তিনি। প্রতিবার ছোবল নিতে ১৫ হাজার টাকা লাগে।