লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রশিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুজন অতিথির বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত রোববার বিকেলে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে এবং উভয় পক্ষেরই দাবি, সংঘর্ষে তাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সমকামী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে হলের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলাকালে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক (শান্ত) অভিযোগ করেন, সমকামিতাকে প্রশ্রয় দিতে ছাত্রশিবির এজিএসকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে এবং সিসিটিভির ফুটেজ মুছে ফেলার মতো মিথ্যাচার করছে। তিনি দাবি করেন, প্রভোস্ট অফিসে শিবিরের নেতা-কর্মীরা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করলে ছাত্রদলের কর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন, তখন শিবিরের কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান। তিনি জানান, মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে তদন্তে অংশ নিতে গেলে ছাত্রদলের সদস্যরা তদন্ত চলাকালে কক্ষে প্রবেশ করেন। তৌকির হাসানের দাবি, প্রভোস্ট অফিসের সামনে ছাত্রদলের সদস্যরা অবস্থান নেওয়ার সময় এক শিবির সদস্যের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ওই সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাঁচজন হাউস টিউটরের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

উভয় পক্ষের দাবি, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানান, হলের প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি জানানোর পর সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত এবং ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত নন বলে জানান প্রক্টর।

জনপ্রিয় সংবাদ

যাত্রাবাড়ীর গণহত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার অঙ্গীকার ট্রাইব্যুনালের

শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রশিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুজন অতিথির বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত রোববার বিকেলে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে এবং উভয় পক্ষেরই দাবি, সংঘর্ষে তাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সমকামী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ভিত্তিতে হলের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলাকালে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক (শান্ত) অভিযোগ করেন, সমকামিতাকে প্রশ্রয় দিতে ছাত্রশিবির এজিএসকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে এবং সিসিটিভির ফুটেজ মুছে ফেলার মতো মিথ্যাচার করছে। তিনি দাবি করেন, প্রভোস্ট অফিসে শিবিরের নেতা-কর্মীরা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করলে ছাত্রদলের কর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন, তখন শিবিরের কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান। তিনি জানান, মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে তদন্তে অংশ নিতে গেলে ছাত্রদলের সদস্যরা তদন্ত চলাকালে কক্ষে প্রবেশ করেন। তৌকির হাসানের দাবি, প্রভোস্ট অফিসের সামনে ছাত্রদলের সদস্যরা অবস্থান নেওয়ার সময় এক শিবির সদস্যের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ওই সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাঁচজন হাউস টিউটরের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

উভয় পক্ষের দাবি, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানান, হলের প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি জানানোর পর সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত এবং ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত নন বলে জানান প্রক্টর।