লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী চালকদের জবাব: ট্রল করলেও দমব না

রাজধানীর মতিঝিল বিআরটিসি ডিপোতে বৃহস্পতিবার দেখা মেলে পিংক বাসের নারী চালকদের। নতুন বাস সেবা চালুর তৃতীয় দিনে তাঁদের মধ্যে উৎসাহের চেয়ে ক্ষোভ ও হতাশাই বেশি। গত মঙ্গলবার ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামে নারী চালক ও কন্ডাক্টর পরিচালিত ১৩ রুটে ১৪টি বাস চালু করেছে বিআরটিসি। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে একটি একতলা ও নয়টি দ্বিতল বাস চলছে। গোলাপি রঙের এসব বাস ‘পিংক বাস’ নামে পরিচিত।

দুই দিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী চালকদের নিয়ে ট্রল ও আজেবাজে মন্তব্য চলছে। এর অন্যতম শিকার চালক খাদিজা আক্তার (২৮)। তিনি ছিলেন গৃহিণী। ২০২১ সালে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে পরে প্রশিক্ষক হন। পিংক বাসের চালক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে গাজীপুরে ১ মাস ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। তিনি জানান, আগে থেকেই গাড়ি চালাতে পারতেন, তাই বাস চালানো শিখতে বেশি সময় লাগেনি। পিংক বাসের চালক হিসেবে তিনি গর্ববোধ করছেন এবং নারী যাত্রীদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তাঁকে আনন্দ ও শক্তি দিচ্ছে।

খাদিজা বলেন, ‘কিছু কিছু ভিডিও দেখেছি। কিছু কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে না নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রূপ করছেন। আমি তাঁদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমাদের কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা দিয়ে দমাতে পারবেন না আপনারা। আমরা নারীরা দেশের যত ধরনের খাত রয়েছে, সব জায়গায় সফলভাবে কাজ করে যাব।’

তিনি আরও বলেন, চালক হওয়ার আগে পরিবার থেকে সহায়তা পেয়েছেন। বাবার বাড়ি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন সাহস জুগিয়েছেন। চাকরিজীবী স্বামী সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন। নারী যাত্রীদের উচ্ছ্বাস দেখে ভালো লেগেছে। কেউ কেউ বলেছেন, ‘আপু, আপনি আমাদের গর্ব। খুব সাবধানে চালাবেন। আপনারাই আমাদের নারীদের বিশ্বের কাছে তুলে ধরবেন।’ তবে এসব উৎসাহের মধ্যেও নেতিবাচক প্রচার তাঁকে হতাশ করেছে। অনেক মন্তব্য দেখে মন খারাপ হলেও সেগুলো উপেক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, ‘পেছনে লোকে অনেক কিছু বলে। এখন আমরা যদি সেসব কথা ধরে মন খারাপ করে বসে থাকি, তাহলে আমাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ তিনি নারীদের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ঘুচিয়ে দেব।’

আরেক চালক মোসাম্মৎ সাথী খাতুন (৩০) ছয় বছর আগে বিআরটিসিতে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। তখন ডিগ্রি পাস ছিলেন। দুই বছর বিআরটিসির প্রশিক্ষক হিসেবে মানিকগঞ্জে কাজ করেন। এর মধ্যে এমএ পাস করেন, এখন এলএলবি করছেন। সাভার ইপিজেডে স্বামী ও একমাত্র সন্তানসহ থাকেন। পিংক বাসে তাঁর রুট মিরপুর ১০ থেকে মতিঝিল। তিনি বলেন, ‘নারী যাত্রীদের সেবা দিতে পেরে ভালো লাগছে। তাঁরা নেমে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ দেন। অন্য বাসের চালকেরাও উৎসাহ দেন। কিছু আজেবাজে লোক নানা কথা বলবেই। সেসব কথায় কিছু মনে করছি না।’

সাথী জানান, তাঁর ভাবি তাসলিমা পারভীন বগুড়ায় পিংক বাসের চালক নিযুক্ত হয়েছেন। ভাই ট্রাকচালক, স্বামীও ট্রাকচালক। গাড়ি চালানোকে পেশা হিসেবে নিতে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন ভাই, সাহস জুগিয়েছেন বাবা। বাবা বলতেন, ‘মেয়েরা বিমান চালায়, ট্রেন চালায়—তুমি কেন পারবে না।’ প্রশিক্ষণের সময় আশপাশের অনেকে আজেবাজে কথা বললেও সেসব কানে নেননি। তিনি বলেন, ‘মানুষের কথা কানে নিলে তো জীবনে উন্নতি করা যাবে না।’

তৃতীয় চালক মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন তিতুমীর কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন। তিনি বলেন, ‘নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হবে, সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই এ পেশায় এসেছি। ভালো কিছু করলেও ট্রল করবে, খারাপ কিছু করলে তো ট্রল করবেই।’ ট্রলের কারণে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে যেকোনো কাজ করলেই ট্রল করে। ভালো কাজ করলে কত দিন টিকে থাকতে পারবেন, সেটা নিয়ে প্রথমেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারবে। এই চ্যালেঞ্জ একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা লাগবে। সড়কে চলার সময় সবাই যদি নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে চালকদের এত চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে না।’

রাবেয়া ২০১২ সালে ব্র্যাকের একটি প্রকল্প থেকে বিনা মূল্যে গাড়ি চালানো শেখেন। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্র্যাকে চাকরি করেন। এরপর বিআরটিসিতে প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৪ সালে ভারী যানবাহন চালানোর লাইসেন্স পান। স্বামী ও একমাত্র সন্তান নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকেন। গাড়ি চালানোকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সময় পরিবারের বাধার মুখে পড়েছিলেন। ‘চালক’ শব্দটিকেই অনেকে নেতিবাচকভাবে নেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কে কী বলেছে শোনার বিষয় না। বিশ্বাস আছে, এগিয়ে যাব। অনেক বেকার শিক্ষিত মেয়ে আছেন, তাঁরা আমাদের দেখে উৎসাহিত হবেন। বিআরটিসি ফ্রি প্রশিক্ষণ দেয়। পরিবহন সেক্টরে মেয়েদের জন্য কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের জেরে আরও দুজন চালক কথা বলতে চাননি। উদ্বোধনী দিনে তাঁরা কথা বলেছিলেন। তাঁরা বলেন, কথা বললেই আবার হেনস্তার শিকার হতে হবে। এর চেয়ে কথা না বলে নিজের মতো করে কাজ করে যেতে চান। তাঁদের পরিবার ও স্বজন রয়েছে, এ ধরনের ট্রল তাঁদের সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—সে চিন্তা নেতিবাচক মন্তব্যকারীরা করেন না। কাজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে চান।

বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নারী বাস নিয়ে কর্মকর্তারা যেন কোনো মন্তব্য না করেন। সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রচারেও মন্ত্রণালয় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এখন মাত্র ১৫ জন চালক ও ২৪ জন নারী কন্ডাক্টর রয়েছেন। বাসে আপাতত পুরুষ প্রশিক্ষক রাখা হচ্ছে নারীদের চালনা তদারকির জন্য। ৩২ আসনের নতুন ১০০ ইলেকট্রিক বাস সংযোজন ও চালকের সংখ্যা না বাড়া পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে প্রচার কম হোক চাইছেন তাঁরা।

নারী বাসযাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও এক পক্ষের মতে, নারীদের জন্য আলাদা বাস সেবা না দিয়ে পুরো গণপরিবহন ব্যবস্থাকে নারীদের নিরাপদে চলার উপযোগী করা উচিত ছিল। সংখ্যায় কম থাকায় এ সেবার পরিণতিও আগের মতো হতে পারে বলে আশঙ্কা। আরেক পক্ষ প্রচণ্ড নারীবিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করছে। তাঁদের মতে, নারীরা বাস চালানোর উপযুক্তই নন। ভিউয়ের প্রতিযোগিতায় নেমে কিছু সংবাদমাধ্যমও নেতিবাচক প্রতিবেদন করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে পুকুরে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু

নারী চালকদের জবাব: ট্রল করলেও দমব না

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর মতিঝিল বিআরটিসি ডিপোতে বৃহস্পতিবার দেখা মেলে পিংক বাসের নারী চালকদের। নতুন বাস সেবা চালুর তৃতীয় দিনে তাঁদের মধ্যে উৎসাহের চেয়ে ক্ষোভ ও হতাশাই বেশি। গত মঙ্গলবার ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামে নারী চালক ও কন্ডাক্টর পরিচালিত ১৩ রুটে ১৪টি বাস চালু করেছে বিআরটিসি। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে একটি একতলা ও নয়টি দ্বিতল বাস চলছে। গোলাপি রঙের এসব বাস ‘পিংক বাস’ নামে পরিচিত।

দুই দিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী চালকদের নিয়ে ট্রল ও আজেবাজে মন্তব্য চলছে। এর অন্যতম শিকার চালক খাদিজা আক্তার (২৮)। তিনি ছিলেন গৃহিণী। ২০২১ সালে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে পরে প্রশিক্ষক হন। পিংক বাসের চালক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে গাজীপুরে ১ মাস ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। তিনি জানান, আগে থেকেই গাড়ি চালাতে পারতেন, তাই বাস চালানো শিখতে বেশি সময় লাগেনি। পিংক বাসের চালক হিসেবে তিনি গর্ববোধ করছেন এবং নারী যাত্রীদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তাঁকে আনন্দ ও শক্তি দিচ্ছে।

খাদিজা বলেন, ‘কিছু কিছু ভিডিও দেখেছি। কিছু কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে না নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রূপ করছেন। আমি তাঁদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমাদের কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা দিয়ে দমাতে পারবেন না আপনারা। আমরা নারীরা দেশের যত ধরনের খাত রয়েছে, সব জায়গায় সফলভাবে কাজ করে যাব।’

তিনি আরও বলেন, চালক হওয়ার আগে পরিবার থেকে সহায়তা পেয়েছেন। বাবার বাড়ি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন সাহস জুগিয়েছেন। চাকরিজীবী স্বামী সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন। নারী যাত্রীদের উচ্ছ্বাস দেখে ভালো লেগেছে। কেউ কেউ বলেছেন, ‘আপু, আপনি আমাদের গর্ব। খুব সাবধানে চালাবেন। আপনারাই আমাদের নারীদের বিশ্বের কাছে তুলে ধরবেন।’ তবে এসব উৎসাহের মধ্যেও নেতিবাচক প্রচার তাঁকে হতাশ করেছে। অনেক মন্তব্য দেখে মন খারাপ হলেও সেগুলো উপেক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, ‘পেছনে লোকে অনেক কিছু বলে। এখন আমরা যদি সেসব কথা ধরে মন খারাপ করে বসে থাকি, তাহলে আমাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ তিনি নারীদের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ঘুচিয়ে দেব।’

আরেক চালক মোসাম্মৎ সাথী খাতুন (৩০) ছয় বছর আগে বিআরটিসিতে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। তখন ডিগ্রি পাস ছিলেন। দুই বছর বিআরটিসির প্রশিক্ষক হিসেবে মানিকগঞ্জে কাজ করেন। এর মধ্যে এমএ পাস করেন, এখন এলএলবি করছেন। সাভার ইপিজেডে স্বামী ও একমাত্র সন্তানসহ থাকেন। পিংক বাসে তাঁর রুট মিরপুর ১০ থেকে মতিঝিল। তিনি বলেন, ‘নারী যাত্রীদের সেবা দিতে পেরে ভালো লাগছে। তাঁরা নেমে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ দেন। অন্য বাসের চালকেরাও উৎসাহ দেন। কিছু আজেবাজে লোক নানা কথা বলবেই। সেসব কথায় কিছু মনে করছি না।’

সাথী জানান, তাঁর ভাবি তাসলিমা পারভীন বগুড়ায় পিংক বাসের চালক নিযুক্ত হয়েছেন। ভাই ট্রাকচালক, স্বামীও ট্রাকচালক। গাড়ি চালানোকে পেশা হিসেবে নিতে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন ভাই, সাহস জুগিয়েছেন বাবা। বাবা বলতেন, ‘মেয়েরা বিমান চালায়, ট্রেন চালায়—তুমি কেন পারবে না।’ প্রশিক্ষণের সময় আশপাশের অনেকে আজেবাজে কথা বললেও সেসব কানে নেননি। তিনি বলেন, ‘মানুষের কথা কানে নিলে তো জীবনে উন্নতি করা যাবে না।’

তৃতীয় চালক মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন তিতুমীর কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন। তিনি বলেন, ‘নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হবে, সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই এ পেশায় এসেছি। ভালো কিছু করলেও ট্রল করবে, খারাপ কিছু করলে তো ট্রল করবেই।’ ট্রলের কারণে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে যেকোনো কাজ করলেই ট্রল করে। ভালো কাজ করলে কত দিন টিকে থাকতে পারবেন, সেটা নিয়ে প্রথমেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারবে। এই চ্যালেঞ্জ একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা লাগবে। সড়কে চলার সময় সবাই যদি নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে চালকদের এত চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে না।’

রাবেয়া ২০১২ সালে ব্র্যাকের একটি প্রকল্প থেকে বিনা মূল্যে গাড়ি চালানো শেখেন। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্র্যাকে চাকরি করেন। এরপর বিআরটিসিতে প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৪ সালে ভারী যানবাহন চালানোর লাইসেন্স পান। স্বামী ও একমাত্র সন্তান নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকেন। গাড়ি চালানোকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সময় পরিবারের বাধার মুখে পড়েছিলেন। ‘চালক’ শব্দটিকেই অনেকে নেতিবাচকভাবে নেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কে কী বলেছে শোনার বিষয় না। বিশ্বাস আছে, এগিয়ে যাব। অনেক বেকার শিক্ষিত মেয়ে আছেন, তাঁরা আমাদের দেখে উৎসাহিত হবেন। বিআরটিসি ফ্রি প্রশিক্ষণ দেয়। পরিবহন সেক্টরে মেয়েদের জন্য কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের জেরে আরও দুজন চালক কথা বলতে চাননি। উদ্বোধনী দিনে তাঁরা কথা বলেছিলেন। তাঁরা বলেন, কথা বললেই আবার হেনস্তার শিকার হতে হবে। এর চেয়ে কথা না বলে নিজের মতো করে কাজ করে যেতে চান। তাঁদের পরিবার ও স্বজন রয়েছে, এ ধরনের ট্রল তাঁদের সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—সে চিন্তা নেতিবাচক মন্তব্যকারীরা করেন না। কাজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে চান।

বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নারী বাস নিয়ে কর্মকর্তারা যেন কোনো মন্তব্য না করেন। সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রচারেও মন্ত্রণালয় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এখন মাত্র ১৫ জন চালক ও ২৪ জন নারী কন্ডাক্টর রয়েছেন। বাসে আপাতত পুরুষ প্রশিক্ষক রাখা হচ্ছে নারীদের চালনা তদারকির জন্য। ৩২ আসনের নতুন ১০০ ইলেকট্রিক বাস সংযোজন ও চালকের সংখ্যা না বাড়া পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে প্রচার কম হোক চাইছেন তাঁরা।

নারী বাসযাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও এক পক্ষের মতে, নারীদের জন্য আলাদা বাস সেবা না দিয়ে পুরো গণপরিবহন ব্যবস্থাকে নারীদের নিরাপদে চলার উপযোগী করা উচিত ছিল। সংখ্যায় কম থাকায় এ সেবার পরিণতিও আগের মতো হতে পারে বলে আশঙ্কা। আরেক পক্ষ প্রচণ্ড নারীবিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করছে। তাঁদের মতে, নারীরা বাস চালানোর উপযুক্তই নন। ভিউয়ের প্রতিযোগিতায় নেমে কিছু সংবাদমাধ্যমও নেতিবাচক প্রতিবেদন করছে।