লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপাল পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৫ বিলিয়ন ডলার, জানালেন অর্থমন্ত্রী

চলতি সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর নেপাল পুনর্গঠনের জন্য ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। শনিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি জানান, এই অর্থের পরিমাণ দেশটির মোট অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান। ওয়াগলে বলেন, প্রাথমিক হিসাবে পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার লাগতে পারে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে এবং এটি কেবল একটি অনুমান।

গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নদীর স্রোতের সঙ্গে নেমে আসে। এ ঘটনায় নেপাল ও চীনের তিব্বতে ৬০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ এই বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক শহর ও জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে সড়ক ও সেতু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপালের অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়েছিল, এবারের পুনর্গঠনে তার চেয়ে কম অর্থ লাগতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ওই দুর্যোগে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত এবং ৫ লাখের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছিল, যার আর্থিক ক্ষতি ছিল দেশটির অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সে সময় পুনর্গঠনে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। তবে এবারের পুনর্গঠনে কেন তুলনামূলক কম অর্থ প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

এই বন্যা নেপালের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির অর্থনীতি মূলত পর্যটন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ এবং জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশের বেশি জোগান দিত। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করা এবং পুনর্গঠন কাজ নেপালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয় গাঁ/জা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

নেপাল পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৫ বিলিয়ন ডলার, জানালেন অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

চলতি সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর নেপাল পুনর্গঠনের জন্য ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। শনিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি জানান, এই অর্থের পরিমাণ দেশটির মোট অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান। ওয়াগলে বলেন, প্রাথমিক হিসাবে পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার লাগতে পারে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে এবং এটি কেবল একটি অনুমান।

গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নদীর স্রোতের সঙ্গে নেমে আসে। এ ঘটনায় নেপাল ও চীনের তিব্বতে ৬০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ এই বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক শহর ও জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে সড়ক ও সেতু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপালের অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়েছিল, এবারের পুনর্গঠনে তার চেয়ে কম অর্থ লাগতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ওই দুর্যোগে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত এবং ৫ লাখের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছিল, যার আর্থিক ক্ষতি ছিল দেশটির অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। সে সময় পুনর্গঠনে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। তবে এবারের পুনর্গঠনে কেন তুলনামূলক কম অর্থ প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

এই বন্যা নেপালের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির অর্থনীতি মূলত পর্যটন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ এবং জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশের বেশি জোগান দিত। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করা এবং পুনর্গঠন কাজ নেপালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।