লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমোহনে ১৬ হাজার জেলের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি চাল, ঋণে দিশেহারা পরিবার

মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ থাকলেও লালমোহন উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলে এখনো সেই সহায়তা পাননি। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৭ অক্টোবরের মধ্যেই জেলেদের হাতে এই চাল পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।

চাল না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মেঘনা পাড়ের জেলে কামরুল মাঝি, মাকসুদ মাঝি, আব্বাস মাঝি ও রুবেল মাঝিসহ অনেকে। তারা জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বর্তমানে তাদের আয়ের কোনো উৎস নেই। সংসার চালানো এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে তারা ধারদেনা করছেন। এনজিওর কিস্তি পরিশোধের চাপেও ঋণের বোঝা দিন দিন ভারী হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লালমোহনে ২৪ হাজারের বেশি জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও এবার ২১ হাজার জেলের জন্য চাল বরাদ্দ এসেছে। এর মধ্যে কালমা, রমাগঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে, তবে বাকি ছয়টি ইউনিয়নের জেলেরা চাল থেকে বঞ্চিত। স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ে সমন্বয়হীনতার কারণেই এই বিলম্ব বলে ধারণা করছেন নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।

জেলেদের অভিযোগ, প্রকৃত তালিকাভুক্ত হয়েও অনেকে সহায়তা পাচ্ছেন না, আবার চাল বিতরণে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগও রয়েছে। এদিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চাল বিতরণের জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব ইউনিয়নে চাল বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য মৎস্য অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

লালমোহনে ১৬ হাজার জেলের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি চাল, ঋণে দিশেহারা পরিবার

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ থাকলেও লালমোহন উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলে এখনো সেই সহায়তা পাননি। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৭ অক্টোবরের মধ্যেই জেলেদের হাতে এই চাল পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।

চাল না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মেঘনা পাড়ের জেলে কামরুল মাঝি, মাকসুদ মাঝি, আব্বাস মাঝি ও রুবেল মাঝিসহ অনেকে। তারা জানান, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বর্তমানে তাদের আয়ের কোনো উৎস নেই। সংসার চালানো এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে তারা ধারদেনা করছেন। এনজিওর কিস্তি পরিশোধের চাপেও ঋণের বোঝা দিন দিন ভারী হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লালমোহনে ২৪ হাজারের বেশি জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও এবার ২১ হাজার জেলের জন্য চাল বরাদ্দ এসেছে। এর মধ্যে কালমা, রমাগঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে, তবে বাকি ছয়টি ইউনিয়নের জেলেরা চাল থেকে বঞ্চিত। স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ে সমন্বয়হীনতার কারণেই এই বিলম্ব বলে ধারণা করছেন নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।

জেলেদের অভিযোগ, প্রকৃত তালিকাভুক্ত হয়েও অনেকে সহায়তা পাচ্ছেন না, আবার চাল বিতরণে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগও রয়েছে। এদিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চাল বিতরণের জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব ইউনিয়নে চাল বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য মৎস্য অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।