লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র লোডশেডিংয়ে নওগাঁয় শিল্প উৎপাদন ও সেচ কার্যক্রমে স্থবিরতা

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) আওতাধীন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। শহরের বাইরের এলাকাগুলোতে দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাতে।

ধান-চাল উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ নওগাঁয় ৭০০-এর অধিক চালকল রয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে এসব কারখানায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সুলতানপুর এলাকার ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক দ্বিজেন ঘোষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং হয়েছে এবং একবার বিদ্যুৎ গেলে প্রায় ১ ঘণ্টা আর পাওয়া যায় না। ডিজেল ব্যবহার করে জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদন চালু রাখায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিসিক পল্লীর নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিলের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। ডিজেল খরচ বাঁচাতে সব সময় জেনারেটর চালানোও সম্ভব হচ্ছে না।

ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শহরের কাজীর মোড় এলাকার পঞ্চভাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল হক জানান, আগস্টের শুরু থেকে লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ভোরে হোটেল খোলার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। একইভাবে ধামইরহাট উপজেলা সদরের ব্যবসায়ীরা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আগে মাসে ৫০০ টাকা চুক্তি করলেও এখন পরিস্থিতির কারণে ১ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে।

কৃষি খাতে আমন মৌসুমের সেচ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিয়ামতপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বিএমডিএ গভীর নলকূপের অপারেটর ফিরোজ হোসেন জানান, দিনে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধানের জমিতে সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু বিদ্যুতের এই অবস্থায় ধান বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা জানান, নেসকো নওগাঁ পৌর এলাকা, বদলগাছী ও পত্নীতলার কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এছাড়া বাকি ১১টি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মাহবুব জিয়া জানান, তাদের অধীনে প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়ার্ট চাহিদার বিপরীতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ৯৫ মেগাওয়ার্ট চাহিদার বিপরীতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত আবেদন জানানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেরপুরে মা’দক মামলার রায়ে ১ ব্যক্তির ১০ বছরের কা’রাদণ্ড

তীব্র লোডশেডিংয়ে নওগাঁয় শিল্প উৎপাদন ও সেচ কার্যক্রমে স্থবিরতা

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৪৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) আওতাধীন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। শহরের বাইরের এলাকাগুলোতে দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাতে।

ধান-চাল উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ নওগাঁয় ৭০০-এর অধিক চালকল রয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে এসব কারখানায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। সুলতানপুর এলাকার ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক দ্বিজেন ঘোষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং হয়েছে এবং একবার বিদ্যুৎ গেলে প্রায় ১ ঘণ্টা আর পাওয়া যায় না। ডিজেল ব্যবহার করে জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদন চালু রাখায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিসিক পল্লীর নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিলের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। ডিজেল খরচ বাঁচাতে সব সময় জেনারেটর চালানোও সম্ভব হচ্ছে না।

ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শহরের কাজীর মোড় এলাকার পঞ্চভাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল হক জানান, আগস্টের শুরু থেকে লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ভোরে হোটেল খোলার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। একইভাবে ধামইরহাট উপজেলা সদরের ব্যবসায়ীরা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আগে মাসে ৫০০ টাকা চুক্তি করলেও এখন পরিস্থিতির কারণে ১ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে।

কৃষি খাতে আমন মৌসুমের সেচ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিয়ামতপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বিএমডিএ গভীর নলকূপের অপারেটর ফিরোজ হোসেন জানান, দিনে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধানের জমিতে সেচ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু বিদ্যুতের এই অবস্থায় ধান বাঁচানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা জানান, নেসকো নওগাঁ পৌর এলাকা, বদলগাছী ও পত্নীতলার কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এছাড়া বাকি ১১টি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মাহবুব জিয়া জানান, তাদের অধীনে প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়ার্ট চাহিদার বিপরীতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ৯৫ মেগাওয়ার্ট চাহিদার বিপরীতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত আবেদন জানানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।