লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুম মামলার আসামি এসআই অসিত ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনে ক্লোজ

২০১৩ সালে কুমিল্লার লাকসামে দুই বিএনপি নেতা গুম ও হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এসআই অসিত কুমার রায়কে ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ থাকা এই কর্মকর্তা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও হরিণাকুণ্ডু থানায় ওসি তদন্ত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় বিএনপির একাংশকে ম্যানেজ করে এলাকায় সশস্ত্র চরমপন্থি, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছিলেন। এই অপকর্মের সিন্ডিকেটে একই থানার এসআই বিপুল ও শ্যামাপ্রসাদও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে লাকসাম ফ্লাওয়ার মিল থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৯ জনকে আটক করা হয়। ওই ঘটনার পর সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু এবং লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী জসিম উদ্দিনের ভাষ্যমতে, র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ টিমের অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন এসআই অসিত কুমার রায়। ওইদিন রাতে ৯ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হলেও হিরু ও হুমায়ুন কবিরকে আর পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার এবং হিরুর ছেলে রাফসাল ইসলামের অভিযোগ, तत्कालीन মন্ত্রী তাজুল ইসলামের নির্দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে এই গুমের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।

ঘটনার পর ২০১৪ সালে হুমায়ুন কবিরের পিতা রঙ্গু মিয়া র‌্যাব-১১-এর ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলার অন্যতম আসামি এসআই অসিত কুমার রায়। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে এই মামলাটি বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ঘুরপাক খেলেও অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বর্তমানে মামলাটি জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।

হরিণাকুণ্ডু থানায় এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে অসিত কুমার রায় সাংবাদিকদের হেনস্তা করেন। তিনি মোবাইল ফোনে মামলার আসামি হওয়ার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করলেও একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটারের ভিডিও চিত্রে তিনি তা স্বীকার করেছিলেন। হরিণাকুণ্ডু থানার বর্তমান ওসি জুলফিকার আলী জানান, তিনি নবাগত হওয়ায় অসিত রায়ের সাথে তার অফিশিয়ালি কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। তবে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান নিশ্চিত করেছেন যে, গুম ও অপহরণ মামলার আসামি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই অসিত কুমার রায়কে হরিণাকুণ্ডু থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ০২আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ০৩

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া দুর্নীতি বন্ধ অসম্ভব: আইনমন্ত্রী

গুম মামলার আসামি এসআই অসিত ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনে ক্লোজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

২০১৩ সালে কুমিল্লার লাকসামে দুই বিএনপি নেতা গুম ও হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এসআই অসিত কুমার রায়কে ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ থাকা এই কর্মকর্তা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও হরিণাকুণ্ডু থানায় ওসি তদন্ত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় বিএনপির একাংশকে ম্যানেজ করে এলাকায় সশস্ত্র চরমপন্থি, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছিলেন। এই অপকর্মের সিন্ডিকেটে একই থানার এসআই বিপুল ও শ্যামাপ্রসাদও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে লাকসাম ফ্লাওয়ার মিল থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৯ জনকে আটক করা হয়। ওই ঘটনার পর সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম হিরু এবং লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী জসিম উদ্দিনের ভাষ্যমতে, র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ টিমের অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন এসআই অসিত কুমার রায়। ওইদিন রাতে ৯ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হলেও হিরু ও হুমায়ুন কবিরকে আর পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার এবং হিরুর ছেলে রাফসাল ইসলামের অভিযোগ, तत्कालीन মন্ত্রী তাজুল ইসলামের নির্দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে এই গুমের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।

ঘটনার পর ২০১৪ সালে হুমায়ুন কবিরের পিতা রঙ্গু মিয়া র‌্যাব-১১-এর ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলার অন্যতম আসামি এসআই অসিত কুমার রায়। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে এই মামলাটি বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ঘুরপাক খেলেও অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বর্তমানে মামলাটি জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।

হরিণাকুণ্ডু থানায় এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে অসিত কুমার রায় সাংবাদিকদের হেনস্তা করেন। তিনি মোবাইল ফোনে মামলার আসামি হওয়ার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করলেও একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটারের ভিডিও চিত্রে তিনি তা স্বীকার করেছিলেন। হরিণাকুণ্ডু থানার বর্তমান ওসি জুলফিকার আলী জানান, তিনি নবাগত হওয়ায় অসিত রায়ের সাথে তার অফিশিয়ালি কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। তবে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিঞা মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান নিশ্চিত করেছেন যে, গুম ও অপহরণ মামলার আসামি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই অসিত কুমার রায়কে হরিণাকুণ্ডু থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ০২আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ০৩