লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডারউইনে ইতিহাস বাংলাদেশের, অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট জয়

অজিদের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের নতুন এক ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের চতুর্থ দিনেই দাপুটে এই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ দল, যার ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা। ২০১৭ সালে মিরপুরে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানোর পর, এবার তাদের নিজেদের মাটিতে হারিয়ে ইতিহাস নতুন করে লিখল বাংলাদেশ।

জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রানের। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান দ্বিতীয় ওভারেই জস হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফিরে গেলে কিছুটা ধাক্কা লেগেছিল। তবে সেই ধাকক্ষা সামাল দিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। সাদমান ২৫ রানে এবং মুমিনুল ৩০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। বো ওয়েবস্টারকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন অভিজ্ঞ মুমিনুল। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকারে ডারউইনের মাঠ যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে।

এর আগে টেস্টের চতুর্থ দিন সকালে বল হাতে ঘূর্ণিজাদুতে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের দিনের ৪ উইকেটে ১৭৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস পরাজয় এড়াতে করতে হতো আরও ৬৭ রান। ক্যামেরন গ্রিনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে (১০৪ রান) তারা ইনিংস হার এড়াতে সক্ষম হয় এবং অস্ট্রেলিয়া লাঞ্চ করতে যায় ৭ উইকেটে ২৪৩ (243) রান নিয়ে, যেখানে তাদের হাতে ছিল ৩ উইকেট এবং লিড ছিল ১৫ রানের। লাঞ্চের পর ১১.১ (11.1) ওভারের মধ্যে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান গ্রিনসহ বাকি ব্যাটসম্যানরাও, যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ২৮৪ রানে। ৫৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের জয়টা এরপর হয়ে দাঁড়ায় কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। মিরাজ ৬৬ রান দিয়ে তুলে নেন ৫টি উইকেট, যা টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ১৫তম পাঁচ উইকেট শিকার। চতুর্থ দিন সকালে তিনি একে একে সাজঘরে ফেরান অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নকে।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে সাবেক অজি পেসার ও ধারাভাষ্যকার ব্রেন্ডন জুলিয়ানকে মিরাজ বলেন, ‘সহজভাবে সবকিছু করতে চেয়েছি। অফ স্টাম্পের বাইরে প্রচুর ফুটমার্কস আছে, সেখানে বল ফেলার চেষ্টা করেছি। সব ওভারেই উইকেটের খোঁজ করিনি। এমন উইকেটে শৃঙ্খলা রেখে বোলিং গুরুত্বপূর্ণ।’ অন্যদিকে, সেঞ্চুরিয়ান গ্রিনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৩ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।

এদিকে ডারউইনের গ্যালারি ছিল প্রায় ফাঁকা। ছুটির দিনেও খুব কম সংখ্যক অস্ট্রেলীয় দর্শক মাঠে এসেছিলেন। এমনকি স্টেডিয়ামের ঐতিহ্যবাহী প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স লাউঞ্জ বা ভিআইপি লাউঞ্জটি ছিল সম্পূর্ণ খালি। লাউঞ্জের এক কর্মী জানান, ম্যাচটি চতুর্থ দিনে গড়াবে না ভেবে কেউ আগে থেকে টিকিট কেনেনি। ফলে শেষ দিনে ভিআইপি লাউঞ্জটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। মাঠের লড়াইটা অস্ট্রেলিয়া দল টেনেটুনে চতুর্থ দিনে নিয়ে গেলেও ডারউইনের দর্শকেরা যেন তৃতীয় দিন শেষেই নিজেদের হার মেনে নিয়েছিলেন।

প্রথমবার যখন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড পেরিয়ে ইনিংস হার এড়াল।

বাংলাদেশের ৪২৬ থেকে ৬৭ রান দূরে থেকে দিনের খেলা শুরু, অস্ট্রেলিয়ার হাতে ছিল ৬ উইকেট।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় গাড়িতে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আমির হামজার

ডারউইনে ইতিহাস বাংলাদেশের, অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট জয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:১০:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

অজিদের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের নতুন এক ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের চতুর্থ দিনেই দাপুটে এই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ দল, যার ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা। ২০১৭ সালে মিরপুরে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানোর পর, এবার তাদের নিজেদের মাটিতে হারিয়ে ইতিহাস নতুন করে লিখল বাংলাদেশ।

জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রানের। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান দ্বিতীয় ওভারেই জস হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে শূন্য রানে ফিরে গেলে কিছুটা ধাক্কা লেগেছিল। তবে সেই ধাকক্ষা সামাল দিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। সাদমান ২৫ রানে এবং মুমিনুল ৩০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। বো ওয়েবস্টারকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন অভিজ্ঞ মুমিনুল। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকারে ডারউইনের মাঠ যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে।

এর আগে টেস্টের চতুর্থ দিন সকালে বল হাতে ঘূর্ণিজাদুতে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের দিনের ৪ উইকেটে ১৭৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস পরাজয় এড়াতে করতে হতো আরও ৬৭ রান। ক্যামেরন গ্রিনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে (১০৪ রান) তারা ইনিংস হার এড়াতে সক্ষম হয় এবং অস্ট্রেলিয়া লাঞ্চ করতে যায় ৭ উইকেটে ২৪৩ (243) রান নিয়ে, যেখানে তাদের হাতে ছিল ৩ উইকেট এবং লিড ছিল ১৫ রানের। লাঞ্চের পর ১১.১ (11.1) ওভারের মধ্যে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান গ্রিনসহ বাকি ব্যাটসম্যানরাও, যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ২৮৪ রানে। ৫৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের জয়টা এরপর হয়ে দাঁড়ায় কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। মিরাজ ৬৬ রান দিয়ে তুলে নেন ৫টি উইকেট, যা টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ১৫তম পাঁচ উইকেট শিকার। চতুর্থ দিন সকালে তিনি একে একে সাজঘরে ফেরান অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নকে।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে সাবেক অজি পেসার ও ধারাভাষ্যকার ব্রেন্ডন জুলিয়ানকে মিরাজ বলেন, ‘সহজভাবে সবকিছু করতে চেয়েছি। অফ স্টাম্পের বাইরে প্রচুর ফুটমার্কস আছে, সেখানে বল ফেলার চেষ্টা করেছি। সব ওভারেই উইকেটের খোঁজ করিনি। এমন উইকেটে শৃঙ্খলা রেখে বোলিং গুরুত্বপূর্ণ।’ অন্যদিকে, সেঞ্চুরিয়ান গ্রিনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৩ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি।

এদিকে ডারউইনের গ্যালারি ছিল প্রায় ফাঁকা। ছুটির দিনেও খুব কম সংখ্যক অস্ট্রেলীয় দর্শক মাঠে এসেছিলেন। এমনকি স্টেডিয়ামের ঐতিহ্যবাহী প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স লাউঞ্জ বা ভিআইপি লাউঞ্জটি ছিল সম্পূর্ণ খালি। লাউঞ্জের এক কর্মী জানান, ম্যাচটি চতুর্থ দিনে গড়াবে না ভেবে কেউ আগে থেকে টিকিট কেনেনি। ফলে শেষ দিনে ভিআইপি লাউঞ্জটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। মাঠের লড়াইটা অস্ট্রেলিয়া দল টেনেটুনে চতুর্থ দিনে নিয়ে গেলেও ডারউইনের দর্শকেরা যেন তৃতীয় দিন শেষেই নিজেদের হার মেনে নিয়েছিলেন।

প্রথমবার যখন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড পেরিয়ে ইনিংস হার এড়াল।

বাংলাদেশের ৪২৬ থেকে ৬৭ রান দূরে থেকে দিনের খেলা শুরু, অস্ট্রেলিয়ার হাতে ছিল ৬ উইকেট।