লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে ‘রেসিপ্রোসিটি’ বা পারস্পরিকতায় জোর ভারতের

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা যখন চাপ বাড়াচ্ছে, তখন বাংলাদেশের বিষয়ে নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করছে ভারত। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও আদান-প্রদানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিতে গিয়ে ভারত প্রথমবারের মতো ইংরেজিতে 'রেসিপ্রোসিটি' (Reciprocity) শব্দটি ব্যবহার করেছে। ভারতের অনলাইন পোর্টাল দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান নতুন করে বলার কিছু নেই। এছাড়া প্রত্যর্পণের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অনুরোধ ভারতের প্রচলিত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই ভাষা ব্যবহারে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলছে যে, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে একটি সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

দ্য প্রিন্টের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের কোনো পরিকল্পনা নেই। এমনকি ভারত তাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানালেও আগামী মাসে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনে তার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে ভারতের পক্ষ থেকে অর্থবহ রাজনৈতিক পদক্ষেপ জরুরি। এর আগে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এক বিবৃতিতে জানান, ভারত সফরের আগে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ শুধু শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণই নয়, রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত খুনিদেরও প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে।

হাসিনা আগস্ট ২০২৪ সালে ঢাকা ছেড়ে নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে বেশ চাপ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে হাসিনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। যদিও ভারত দাবি করেছে, হাসিনার সংবাদ সম্মেলন তার ব্যক্তিগত বিষয়, তবুও ঢাকার ক্ষোভ কমেনি। এর আগে গত নয় মাসে ভারত বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এস. জয়শঙ্করের ঢাকা সফর, ওম বিড়লা ও বিক্রম মিশ্রির উপস্থিতি এবং সর্বশেষ গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফর। তবে এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের পরিবেশ তৈরি করা, যা এখন নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে ডিবি হারুনের গোপন বন্দিশালা

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে ‘রেসিপ্রোসিটি’ বা পারস্পরিকতায় জোর ভারতের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা যখন চাপ বাড়াচ্ছে, তখন বাংলাদেশের বিষয়ে নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করছে ভারত। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও আদান-প্রদানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিতে গিয়ে ভারত প্রথমবারের মতো ইংরেজিতে 'রেসিপ্রোসিটি' (Reciprocity) শব্দটি ব্যবহার করেছে। ভারতের অনলাইন পোর্টাল দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান নতুন করে বলার কিছু নেই। এছাড়া প্রত্যর্পণের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অনুরোধ ভারতের প্রচলিত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই ভাষা ব্যবহারে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলছে যে, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে একটি সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে।

দ্য প্রিন্টের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের কোনো পরিকল্পনা নেই। এমনকি ভারত তাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানালেও আগামী মাসে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনে তার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে ভারতের পক্ষ থেকে অর্থবহ রাজনৈতিক পদক্ষেপ জরুরি। এর আগে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এক বিবৃতিতে জানান, ভারত সফরের আগে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ শুধু শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণই নয়, রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত খুনিদেরও প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে।

হাসিনা আগস্ট ২০২৪ সালে ঢাকা ছেড়ে নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে বেশ চাপ তৈরি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে হাসিনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। যদিও ভারত দাবি করেছে, হাসিনার সংবাদ সম্মেলন তার ব্যক্তিগত বিষয়, তবুও ঢাকার ক্ষোভ কমেনি। এর আগে গত নয় মাসে ভারত বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এস. জয়শঙ্করের ঢাকা সফর, ওম বিড়লা ও বিক্রম মিশ্রির উপস্থিতি এবং সর্বশেষ গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফর। তবে এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের পরিবেশ তৈরি করা, যা এখন নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।