লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেলের টাকা জোগাতে প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া হবে: উপদেষ্টা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ঋণ নিয়েও নতুন পে-স্কেলের টাকা জোগানো হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা জানান, নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে এবং কত ধাপে কার্যকর হবে, তা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

পে-স্কেল প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সাধারণত তিনটি পর্যায়ে কাজ হয়। প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল পে কমিশন তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি প্রতিবেদন সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিয়েছে।

বিচার বিভাগের পে-স্কেলের জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি প্রতিবেদন দেবে। এর মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হবে। তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করবে এবং কোন বিষয় কবে থেকে বাস্তবায়ন হবে, সেই সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হবে বলে জানান তিনি।

নতুন পে-স্কেলের অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ঋণও নেওয়া হবে। ঋণ নেওয়াকে তিনি সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, মূল বিষয় হলো বাজেট ঘাটতি কত, মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় করের পরিমাণ কত এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় কত ব্যয় করা হচ্ছে।

পে-স্কেলের সুবিধা সীমিতসংখ্যক সরকারি চাকরিজীবী পাবেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বেতন বৈষম্য ও সরকারি-বেসরকারি খাতের বেতন তুলনার যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতের ব্যয় বা বেতন তুলনার ক্ষেত্রে একই ধরনের বিষয়কে একই ধরনের বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বেতন এবং বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। ‘যার কর্ম অনুযায়ী তার ব্যবস্থা’ এই নীতি বিবেচনায় রাখতে হবে।

বেতন বাড়ালে দুর্নীতি কমার নিশ্চয়তা আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার এমন দাবি করছে না। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কার্যকর ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নেওয়া।

পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, মূল বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ এবং পেনশনভোগীসহ অন্যান্যদের যুক্ত করলে সংখ্যাটি প্রায় ২০ লাখের কাছাকাছি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যে বড় মাত্রায় বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পে-স্কেল নিয়ে কাজ চলছে। তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে নাকি ধাপে ধাপে কার্যকর হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের সময় ও ধাপ নির্ধারণ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরবঙ্গে ফের অমিত শাহ, চিকেনস নেক সুরক্ষা পর্যালোচনা

নতুন পে-স্কেলের টাকা জোগাতে প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া হবে: উপদেষ্টা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ঋণ নিয়েও নতুন পে-স্কেলের টাকা জোগানো হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা জানান, নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে এবং কত ধাপে কার্যকর হবে, তা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

পে-স্কেল প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সাধারণত তিনটি পর্যায়ে কাজ হয়। প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল পে কমিশন তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি প্রতিবেদন সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিয়েছে।

বিচার বিভাগের পে-স্কেলের জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি প্রতিবেদন দেবে। এর মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হবে। তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করবে এবং কোন বিষয় কবে থেকে বাস্তবায়ন হবে, সেই সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হবে বলে জানান তিনি।

নতুন পে-স্কেলের অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ঋণও নেওয়া হবে। ঋণ নেওয়াকে তিনি সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, মূল বিষয় হলো বাজেট ঘাটতি কত, মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় করের পরিমাণ কত এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় কত ব্যয় করা হচ্ছে।

পে-স্কেলের সুবিধা সীমিতসংখ্যক সরকারি চাকরিজীবী পাবেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বেতন বৈষম্য ও সরকারি-বেসরকারি খাতের বেতন তুলনার যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতের ব্যয় বা বেতন তুলনার ক্ষেত্রে একই ধরনের বিষয়কে একই ধরনের বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বেতন এবং বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। ‘যার কর্ম অনুযায়ী তার ব্যবস্থা’ এই নীতি বিবেচনায় রাখতে হবে।

বেতন বাড়ালে দুর্নীতি কমার নিশ্চয়তা আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার এমন দাবি করছে না। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কার্যকর ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নেওয়া।

পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, মূল বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ এবং পেনশনভোগীসহ অন্যান্যদের যুক্ত করলে সংখ্যাটি প্রায় ২০ লাখের কাছাকাছি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যে বড় মাত্রায় বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পে-স্কেল নিয়ে কাজ চলছে। তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে নাকি ধাপে ধাপে কার্যকর হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের সময় ও ধাপ নির্ধারণ করবে।