লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজা নৌবহরে হামলার ঘটনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়া নৌবহর ফ্লোটিলা আটকে দেওয়া এবং অভিযাত্রীদের আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক। দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, গত শনিবার তুরস্কের বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পরোয়ানা জারি করে। পরোয়ানায় নেতানিয়াহুকে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গত মে মাসে স্পেন থেকে গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল ৫০টি নৌযানের ফ্লোটিলা। এতে ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের ৪৩০ জন মানবাধিকারকর্মী ছিলেন। গাজায় পৌঁছানোর আগেই মে মাসে নৌবহরটিকে আটকে দেওয়া হয় এবং অভিযাত্রীদের আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরার পর অনেক অভিযাত্রী অভিযোগ করেন যে, আটক অবস্থায় ইসরায়েলের পুলিশ ও সেনাসদস্যরা তাদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি চালিয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ফ্রান্স, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়া ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, নেতানিয়াহুর পাশাপাশি অ্যাফেক মোসকোভিৎজ নামে এক ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলা অভিযাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তাদের গ্রেপ্তারে লাল নোটিশ জারি করা হয়।

বিচারমন্ত্রী আরও জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, স্বাধীনতা হরণ, ইচ্ছাকৃত হামলা, নির্যাতন, সম্পত্তি ধ্বংস, লুটপাট এবং যানবাহন ছিনতাইয়ের অভিযোগে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরদিন থেকে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে, যা দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বেশ কয়েকবার নেতানিয়াহুকে ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী হামাসের যোদ্ধারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫০ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে আসার পরের দিন ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েরের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

গত ২ বছরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বেশ কয়েক বার নেতানিয়াহুকে ‘গণহত্যাকারী’ বলেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হোসেনপুরে সাবেক ইউপি সদস্যকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন

গাজা নৌবহরে হামলার ঘটনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়া নৌবহর ফ্লোটিলা আটকে দেওয়া এবং অভিযাত্রীদের আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক। দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, গত শনিবার তুরস্কের বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই পরোয়ানা জারি করে। পরোয়ানায় নেতানিয়াহুকে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

গত মে মাসে স্পেন থেকে গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল ৫০টি নৌযানের ফ্লোটিলা। এতে ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের ৪৩০ জন মানবাধিকারকর্মী ছিলেন। গাজায় পৌঁছানোর আগেই মে মাসে নৌবহরটিকে আটকে দেওয়া হয় এবং অভিযাত্রীদের আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরার পর অনেক অভিযাত্রী অভিযোগ করেন যে, আটক অবস্থায় ইসরায়েলের পুলিশ ও সেনাসদস্যরা তাদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি চালিয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ফ্রান্স, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়া ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, নেতানিয়াহুর পাশাপাশি অ্যাফেক মোসকোভিৎজ নামে এক ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলা অভিযাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তাদের গ্রেপ্তারে লাল নোটিশ জারি করা হয়।

বিচারমন্ত্রী আরও জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, স্বাধীনতা হরণ, ইচ্ছাকৃত হামলা, নির্যাতন, সম্পত্তি ধ্বংস, লুটপাট এবং যানবাহন ছিনতাইয়ের অভিযোগে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরদিন থেকে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে, যা দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বেশ কয়েকবার নেতানিয়াহুকে ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী হামাসের যোদ্ধারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫০ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে আসার পরের দিন ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েরের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

গত ২ বছরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বেশ কয়েক বার নেতানিয়াহুকে ‘গণহত্যাকারী’ বলেছেন।