লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আসছে

ইরানের ওপর দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান যুদ্ধের আবহে ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপর চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এমন সব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনার সূত্র ধরে ইরানের ওপর প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু হয়। কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ‘বিরোধিতামূলক আচরণ’ প্রতিহত করা এবং তা পরিবর্তনে উৎসাহিত করাই এসব নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোই সবচেয়ে বিস্তৃত ও সর্বাত্মক। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের সঙ্গে প্রায় সব ধরনের মার্কিন বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইরানি সরকারের সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং দেশটিতে বিদেশি সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রির ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।

তবে এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কিছু মানবিক ও যোগাযোগসংক্রান্ত ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জানায়, খাদ্য, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া সিআরএসের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানি নাগরিকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধার্থে যুক্তরাষ্ট্র টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম সরবরাহের অনুমতি দেয়, যাতে সরকার ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করলে নাগরিকরা তা পাশ কাটাতে পারে।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলা এসব কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরও ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন এই পদক্ষেপগুলো কতটা কঠোর হবে, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইলিশশূন্য বরিশালের পোর্ট রোড আড়ত, হতাশায় মৎস্য ব্যবসায়ীরা

ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আসছে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের ওপর দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান যুদ্ধের আবহে ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপর চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এমন সব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনার সূত্র ধরে ইরানের ওপর প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু হয়। কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ‘বিরোধিতামূলক আচরণ’ প্রতিহত করা এবং তা পরিবর্তনে উৎসাহিত করাই এসব নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোই সবচেয়ে বিস্তৃত ও সর্বাত্মক। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের সঙ্গে প্রায় সব ধরনের মার্কিন বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইরানি সরকারের সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং দেশটিতে বিদেশি সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রির ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।

তবে এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কিছু মানবিক ও যোগাযোগসংক্রান্ত ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জানায়, খাদ্য, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া সিআরএসের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানি নাগরিকদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধার্থে যুক্তরাষ্ট্র টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম সরবরাহের অনুমতি দেয়, যাতে সরকার ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করলে নাগরিকরা তা পাশ কাটাতে পারে।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলা এসব কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরও ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন এই পদক্ষেপগুলো কতটা কঠোর হবে, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।