লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইলিশশূন্য বরিশালের পোর্ট রোড আড়ত, হতাশায় মৎস্য ব্যবসায়ীরা

ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও বরিশালের পোর্ট রোড মৎস্য আড়তে রুপালি ইলিশের দেখা মেলা ভার। বছরের এই সময়ে প্রতিদিন হাজার মণেরও বেশি ইলিশ আসার কথা থাকলেও বর্তমানে গড়ে ১০০ মণেরও কম মাছ আমদানি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আড়তের শ্রমিক-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ইজারাদারদের খামখেয়ালি এবং অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণেই এই মোকাম থেকে জেলেরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আগে ইউনূস সরকারের আমলে মণপ্রতি ১০০ টাকা টোল আদায় করা হতো, যা বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইজারাদার মো. কামাল হোসেন এবং বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. সোবাহান বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করেছেন। পাশাপাশি পাইকারি ক্রেতাদের কাছ থেকেও মণপ্রতি ৮০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মৎস্য আড়তদার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল সিকদারসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কামাল সিকদার দাবি করেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. সোবাহান, নেতা মো. মনির এবং মহানগর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মো. আইয়ুবের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর ভয়ে অন্য ব্যবসায়ীরা আর প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

মৎস্য আড়তদার নাসির উদ্দিন জানান, গত শুক্রবার পোর্ট রোডে এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২,৮৫০ টাকা, এক কেজির ইলিশ ২,৬৫০ টাকা, এলসি সাইজ ২,৩০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২,০৫০ টাকা এবং জাটকা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় জেলেরা এখন নদীর মোহনা থেকেই মাছ বিক্রি করে দিচ্ছেন, ফলে আড়তে মাছ কম আসছে।

জেলে কামরুল ইসলাম ও হিজলা উপজেলার বাসিন্দা মামুন সিকদার বলেন, এখন আর আগের দিন নেই। নদীতে জাল ফেললেও সচরাচর ইলিশের দেখা মেলে না। খালি হাতে অনেকটা হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। দু-চারটা পেলেও তার সাইজ ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের মধ্যে থাকে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে কিছু মিলছে। এসব ইলিশ তারা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। এছাড়া অতিরিক্ত টোল এড়াতে তারা চাঁদপুরসহ অন্যান্য মোকামে মাছ নিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইজারাদার ও মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘাট পরিচালনার লোকসান কাটাতে আড়তদারদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই টোল ২৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৮০ টাকা করা হয়েছে এবং কাউকে মারধর করা হয়নি।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাদিউজ্জামান জানান, নদীর মোহনায় ডুবোচর এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের কারণে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা মাছের উৎপাদন হ্রাসে প্রভাব ফেলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইলিশশূন্য বরিশালের পোর্ট রোড আড়ত, হতাশায় মৎস্য ব্যবসায়ীরা

ইলিশশূন্য বরিশালের পোর্ট রোড আড়ত, হতাশায় মৎস্য ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও বরিশালের পোর্ট রোড মৎস্য আড়তে রুপালি ইলিশের দেখা মেলা ভার। বছরের এই সময়ে প্রতিদিন হাজার মণেরও বেশি ইলিশ আসার কথা থাকলেও বর্তমানে গড়ে ১০০ মণেরও কম মাছ আমদানি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আড়তের শ্রমিক-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ইজারাদারদের খামখেয়ালি এবং অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণেই এই মোকাম থেকে জেলেরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আগে ইউনূস সরকারের আমলে মণপ্রতি ১০০ টাকা টোল আদায় করা হতো, যা বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইজারাদার মো. কামাল হোসেন এবং বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. সোবাহান বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করেছেন। পাশাপাশি পাইকারি ক্রেতাদের কাছ থেকেও মণপ্রতি ৮০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে মৎস্য আড়তদার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল সিকদারসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কামাল সিকদার দাবি করেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. সোবাহান, নেতা মো. মনির এবং মহানগর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মো. আইয়ুবের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর ভয়ে অন্য ব্যবসায়ীরা আর প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

মৎস্য আড়তদার নাসির উদ্দিন জানান, গত শুক্রবার পোর্ট রোডে এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২,৮৫০ টাকা, এক কেজির ইলিশ ২,৬৫০ টাকা, এলসি সাইজ ২,৩০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২,০৫০ টাকা এবং জাটকা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় জেলেরা এখন নদীর মোহনা থেকেই মাছ বিক্রি করে দিচ্ছেন, ফলে আড়তে মাছ কম আসছে।

জেলে কামরুল ইসলাম ও হিজলা উপজেলার বাসিন্দা মামুন সিকদার বলেন, এখন আর আগের দিন নেই। নদীতে জাল ফেললেও সচরাচর ইলিশের দেখা মেলে না। খালি হাতে অনেকটা হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। দু-চারটা পেলেও তার সাইজ ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের মধ্যে থাকে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে কিছু মিলছে। এসব ইলিশ তারা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। এছাড়া অতিরিক্ত টোল এড়াতে তারা চাঁদপুরসহ অন্যান্য মোকামে মাছ নিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইজারাদার ও মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘাট পরিচালনার লোকসান কাটাতে আড়তদারদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই টোল ২৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৮০ টাকা করা হয়েছে এবং কাউকে মারধর করা হয়নি।

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাদিউজ্জামান জানান, নদীর মোহনায় ডুবোচর এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের কারণে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা মাছের উৎপাদন হ্রাসে প্রভাব ফেলছে।