লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেছারাবাদে স্কুলছাত্রী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক বাবা পালালেন

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আটক হওয়া বাবা আব্দুল আজিজ স্থানীয়দের বন্দিদশা থেকে জানালা ভেঙে পালিয়ে গেছেন। উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত রবিবার (২৩ আগস্ট) রাতে তিনি বাড়িতে ফিরলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। কিন্তু পরদিন সোমবার সকালে তিনি জানালা ভেঙে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে গত ১১ জুন তার নিজের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী মেয়েটি স্থানীয় এগারোগ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় এক মাস ধরে মেয়েটি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় এবং তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ জাগে। এরপর প্রতিবেশী আব্দুল কাদের ও রেবেকা সুলতানা তাকে গোপনে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে মেয়েটির প্রায় তিন মাসের গর্ভধারণের বিষয়টি ধরা পড়ে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা না থাকায় সে বাবার সঙ্গেই একই বাড়িতে বসবাস করত। মেয়েটির বরাতে স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন সময়ে তার বাবা তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে যৌন নির্যাতন করতেন। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আব্দুল আজিজ প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও পরে গ্রামবাসী তার বাড়িতে গেলে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

দীর্ঘদিন পর রবিবার রাতে তিনি এলাকায় ফিরেছেন খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তার বাড়ি ঘেরাও করে তাকে আটক করেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুদর্শন বড়াল জানান, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে না আসায় তাকে বাড়ির একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরদিন সকালে গিয়ে দেখা যায়, তিনি জানালা ভেঙে পালিয়ে গেছেন।

একই এলাকার বাসিন্দা হিরন মিয়া জানান, নিজের স্কুলছাত্রী মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে আজিজুল ইসলামের (আব্দুল আজিজ) বিরুদ্ধে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। রাতে তাকে আটক করে পুলিশের অপেক্ষা করা হচ্ছিল। কিন্তু পুলিশ না আসায় তাকে আটকে রাখা ঘরের পেছনের জানালা ভেঙে তিনি পালিয়ে যান।

এই বিষয়ে নেছারাবাদের পার্টিকেলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিশ্বজিৎ বর্মন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে একজনকে আটকে রাখার খবর তিনি শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি জানালা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তার জানা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনিক প্রশিক্ষণে পাকিস্তান যাচ্ছেন ৩৫ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা

নেছারাবাদে স্কুলছাত্রী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক বাবা পালালেন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আটক হওয়া বাবা আব্দুল আজিজ স্থানীয়দের বন্দিদশা থেকে জানালা ভেঙে পালিয়ে গেছেন। উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত রবিবার (২৩ আগস্ট) রাতে তিনি বাড়িতে ফিরলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। কিন্তু পরদিন সোমবার সকালে তিনি জানালা ভেঙে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে গত ১১ জুন তার নিজের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী মেয়েটি স্থানীয় এগারোগ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় এক মাস ধরে মেয়েটি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় এবং তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ জাগে। এরপর প্রতিবেশী আব্দুল কাদের ও রেবেকা সুলতানা তাকে গোপনে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে মেয়েটির প্রায় তিন মাসের গর্ভধারণের বিষয়টি ধরা পড়ে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা না থাকায় সে বাবার সঙ্গেই একই বাড়িতে বসবাস করত। মেয়েটির বরাতে স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন সময়ে তার বাবা তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে যৌন নির্যাতন করতেন। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আব্দুল আজিজ প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও পরে গ্রামবাসী তার বাড়িতে গেলে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

দীর্ঘদিন পর রবিবার রাতে তিনি এলাকায় ফিরেছেন খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তার বাড়ি ঘেরাও করে তাকে আটক করেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুদর্শন বড়াল জানান, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে না আসায় তাকে বাড়ির একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরদিন সকালে গিয়ে দেখা যায়, তিনি জানালা ভেঙে পালিয়ে গেছেন।

একই এলাকার বাসিন্দা হিরন মিয়া জানান, নিজের স্কুলছাত্রী মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে আজিজুল ইসলামের (আব্দুল আজিজ) বিরুদ্ধে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। রাতে তাকে আটক করে পুলিশের অপেক্ষা করা হচ্ছিল। কিন্তু পুলিশ না আসায় তাকে আটকে রাখা ঘরের পেছনের জানালা ভেঙে তিনি পালিয়ে যান।

এই বিষয়ে নেছারাবাদের পার্টিকেলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিশ্বজিৎ বর্মন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে একজনকে আটকে রাখার খবর তিনি শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি জানালা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তার জানা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।