লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজিপুরে শীতকালীন সবজির বাম্পার সরবরাহ, পাইকারি বাজারে নামল দাম

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে শীতকালীন সবজির আমদানি প্রতিদিন বাড়ছে। সোনামুখী, ঢেকুরিয়া, মেঘাই, নাটুয়ারপাড়া, কুমারিয়াবাড়ী এবং সিমান্তবাজারের মতো প্রধান বাজারগুলোতে সবজি সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে এসেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দর। এতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

কয়েক দিন আগেও ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, বরবটি, শিম ও মূলার মতো শীতকালীন সবজির প্রারম্ভিক সরবরাহ কম থাকায় দাম ছিল বেশ চড়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনামুখী ও মেঘাই পাইকারি বাজারে সবজির দর কমেছে বহুগুণ। বর্তমানে সেখানে প্রতি কেজি শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, চিকন বেগুন ২৫ টাকা এবং গোল বেগুন ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, শসা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পটল ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং মূলা মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে মিলছে। সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে পেঁপের, যা এখন পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫ থেকে ৭ টাকায়।

অন্যান্য সবজির পাশাপাশি ঝাঁজ কমেছে কাঁচা মরিচ ও আলুরও। এক মাস আগে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও গত দুই সপ্তাহে নতুন মরিচের আমদানি বাড়ায় তা নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে কাঁচা মরিচ মিলছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে। পাশাপাশি দেশি লাল পাকড়ি আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে।

মেঘাই বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও নাটুয়ারপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী মান্নান জানান, বাজারে নতুন শীতকালীন সবজির ব্যাপক সরবরাহের কারণে সারাবছর পাওয়া যায় এমন সবজিগুলোর দামও দ্রুত কমছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সবজির মূল্য আরও কমতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

মাছ ও মাংসের চড়া বাজারের সঙ্গে সবজির মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি এলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যেন দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ শারিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে কাজিপুরে শীতকালীন সবজির সাফল্যজনক আবাদ হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ ভালো রয়েছে এবং মূল্য সাধারণের নাগালের মধ্যে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় চাহিদার প্রয়োজন মিটিয়ে কাজিপুরের উৎপাদিত তাজা সবজি এখন ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ, দাবি ডিএমপির

কাজিপুরে শীতকালীন সবজির বাম্পার সরবরাহ, পাইকারি বাজারে নামল দাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০১:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে শীতকালীন সবজির আমদানি প্রতিদিন বাড়ছে। সোনামুখী, ঢেকুরিয়া, মেঘাই, নাটুয়ারপাড়া, কুমারিয়াবাড়ী এবং সিমান্তবাজারের মতো প্রধান বাজারগুলোতে সবজি সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে এসেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দর। এতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

কয়েক দিন আগেও ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, বরবটি, শিম ও মূলার মতো শীতকালীন সবজির প্রারম্ভিক সরবরাহ কম থাকায় দাম ছিল বেশ চড়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনামুখী ও মেঘাই পাইকারি বাজারে সবজির দর কমেছে বহুগুণ। বর্তমানে সেখানে প্রতি কেজি শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, চিকন বেগুন ২৫ টাকা এবং গোল বেগুন ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, শসা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পটল ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং মূলা মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে মিলছে। সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে পেঁপের, যা এখন পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫ থেকে ৭ টাকায়।

অন্যান্য সবজির পাশাপাশি ঝাঁজ কমেছে কাঁচা মরিচ ও আলুরও। এক মাস আগে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও গত দুই সপ্তাহে নতুন মরিচের আমদানি বাড়ায় তা নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। খুচরা পর্যায়ে কাঁচা মরিচ মিলছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে। পাশাপাশি দেশি লাল পাকড়ি আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে।

মেঘাই বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও নাটুয়ারপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী মান্নান জানান, বাজারে নতুন শীতকালীন সবজির ব্যাপক সরবরাহের কারণে সারাবছর পাওয়া যায় এমন সবজিগুলোর দামও দ্রুত কমছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সবজির মূল্য আরও কমতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

মাছ ও মাংসের চড়া বাজারের সঙ্গে সবজির মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি এলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যেন দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ শারিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে কাজিপুরে শীতকালীন সবজির সাফল্যজনক আবাদ হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ ভালো রয়েছে এবং মূল্য সাধারণের নাগালের মধ্যে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় চাহিদার প্রয়োজন মিটিয়ে কাজিপুরের উৎপাদিত তাজা সবজি এখন ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক বাজারে পাঠানো হচ্ছে।