লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিশ্চিহ্ন সোল বাজার, নিখোঁজ সহস্রাধিক মানুষ

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় একটি পুরো জেলা দেশের অন্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিজের শৈশবের গ্রাম সোল বাজার ও আশপাশের জনপদকে বন্যার পানিতে নিশ্চিহ্ন হতে দেখেছেন এক সাংবাদিক। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে কাঠমান্ডুতে অফিসে যাওয়ার পথে তিনি তার স্ত্রীর কাছ থেকে ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ বন্যার খবর পান। সোল বাজার ও বেত্রাবতীতে কিছুই অবশিষ্ট নেই বলে জানা যায়।

সোল ও টুপছে নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও গ্রামটি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ৪৪ বছরের জীবনে এমন ভয়াবহতা কখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন ওই সাংবাদিক। স্থানীয় ওয়ার্ড চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নেপাল জানিয়েছেন, গ্রামটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বেত্রাবতীর প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িঘর ভেসে গেছে এবং একটি স্কুল ভ্যানও পানির নিচে তলিয়ে আছে। মানুষ এখন খাড়া পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছে।

দুর্যোগে ওই সাংবাদিকের পরিবারের বড় খালা, খালার ছেলে মধু দাই, তার স্ত্রী, আরেক খালা, তার নাতি সিজান, সিজানের স্ত্রী ও তাদের ছেলে-পুত্রবধূ নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া তার মামা গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে আর ফেরেননি। সাংবাদিক নিরঞ্জনের পরিবারও এই বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে; তার বাবা-মা, চাচা-চাচি ও ছোট বোন হিমানি পানিতে ভেসে গেছেন।

বন্যা শুধু ঘরবাড়িই ধ্বংস করেনি, বরং রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাকেও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির প্রবেশপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো জেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। ভাইনসে সেতুসহ নদীর ওপরের অধিকাংশ ঝুলন্ত সেতু ভেসে যাওয়ায় জেলা সদর বিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভৈরামকোট, সামারি, টক্সার, দেউরালি, কিসপাং, কাউলে, ভালছে, সালমে এবং সীমান্তের ওপারের ধাদিংয়ের থারপুসহ অনেক এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এখন পর্যন্ত নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আটটি জেলা থেকে নতুন করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১০০০ মানুষ। বেঁচে যাওয়া মানুষজন এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন, আর জেলা হাসপাতালগুলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশনসহ সংসদে ৩টি বিল উত্থাপন

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিশ্চিহ্ন সোল বাজার, নিখোঁজ সহস্রাধিক মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় একটি পুরো জেলা দেশের অন্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নিজের শৈশবের গ্রাম সোল বাজার ও আশপাশের জনপদকে বন্যার পানিতে নিশ্চিহ্ন হতে দেখেছেন এক সাংবাদিক। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে কাঠমান্ডুতে অফিসে যাওয়ার পথে তিনি তার স্ত্রীর কাছ থেকে ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ বন্যার খবর পান। সোল বাজার ও বেত্রাবতীতে কিছুই অবশিষ্ট নেই বলে জানা যায়।

সোল ও টুপছে নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও গ্রামটি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ৪৪ বছরের জীবনে এমন ভয়াবহতা কখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন ওই সাংবাদিক। স্থানীয় ওয়ার্ড চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নেপাল জানিয়েছেন, গ্রামটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বেত্রাবতীর প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িঘর ভেসে গেছে এবং একটি স্কুল ভ্যানও পানির নিচে তলিয়ে আছে। মানুষ এখন খাড়া পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছে।

দুর্যোগে ওই সাংবাদিকের পরিবারের বড় খালা, খালার ছেলে মধু দাই, তার স্ত্রী, আরেক খালা, তার নাতি সিজান, সিজানের স্ত্রী ও তাদের ছেলে-পুত্রবধূ নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া তার মামা গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে আর ফেরেননি। সাংবাদিক নিরঞ্জনের পরিবারও এই বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে; তার বাবা-মা, চাচা-চাচি ও ছোট বোন হিমানি পানিতে ভেসে গেছেন।

বন্যা শুধু ঘরবাড়িই ধ্বংস করেনি, বরং রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাকেও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির প্রবেশপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো জেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। ভাইনসে সেতুসহ নদীর ওপরের অধিকাংশ ঝুলন্ত সেতু ভেসে যাওয়ায় জেলা সদর বিদুরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভৈরামকোট, সামারি, টক্সার, দেউরালি, কিসপাং, কাউলে, ভালছে, সালমে এবং সীমান্তের ওপারের ধাদিংয়ের থারপুসহ অনেক এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এখন পর্যন্ত নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আটটি জেলা থেকে নতুন করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১০০০ মানুষ। বেঁচে যাওয়া মানুষজন এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন, আর জেলা হাসপাতালগুলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।