লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৮ সালের ৫ জুন শুরু হচ্ছে নাইন ইলেভেন হামলার বিচার

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে পরিচিত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের নাইন ইলেভেন ঘটনার প্রায় আড়াই দশক পর অবশেষে মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচারকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। সামরিক বিচারক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল এ শ্রামা আদালতের নথিতে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের ৫ জুন খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত আরও তিনজনের বিচার শুরু হবে। এই মামলায় অভিযুক্ত অপর তিনজন হলেন ওয়ালিদ বিন আতাশ, আলী আবদুল আজিজ আলী ও মুস্তফা আল-হাওসাই।

প্রসিকিউটররা শুরুতে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মামলার বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিরসন এবং আদালতে কোন কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা যাবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় বিচারক সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। নতুন নির্ধারিত এই তারিখটি আদালতের বিভিন্ন বিষয় নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সময় নিশ্চিত করবে।

আগামী মাসে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ওই দিন ছিনতাই করা উড়োজাহাজ দিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে হামলা চালানো হয় এবং আরেকটি উড়োজাহাজ পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এসব হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। মার্কিন সরকারের ভাষায়, এটি আধুনিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সংঘটিত সবচেয়ে গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর জন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেগুলো নিয়ে হামলার পরিকল্পনা তিনিই করেছিলেন এবং পরে তা আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের কাছে নিয়ে যান। ২০০৩ সালের মার্চে পাকিস্তান থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে বিভিন্ন গোপন আটককেন্দ্রে রাখা হয় এবং ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৫ জন বন্দী রয়েছেন।

এর আগে মৃত্যুদণ্ড এড়াতে খালিদ শেখ মোহাম্মদ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। দুই বছর ধরে আলোচনার পর তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের নিয়োগ দেওয়া একজন কর্মকর্তা এতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে অস্টিন এই সমঝোতার বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিলেন না বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি এটি বাতিল করার চেষ্টা করেন এবং গত বছরের গ্রীষ্মে একটি ফেডারেল আপিল আদালত সমঝোতাটি বাতিল করে দেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির

২০২৮ সালের ৫ জুন শুরু হচ্ছে নাইন ইলেভেন হামলার বিচার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে পরিচিত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের নাইন ইলেভেন ঘটনার প্রায় আড়াই দশক পর অবশেষে মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচারকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। সামরিক বিচারক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল এ শ্রামা আদালতের নথিতে জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের ৫ জুন খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত আরও তিনজনের বিচার শুরু হবে। এই মামলায় অভিযুক্ত অপর তিনজন হলেন ওয়ালিদ বিন আতাশ, আলী আবদুল আজিজ আলী ও মুস্তফা আল-হাওসাই।

প্রসিকিউটররা শুরুতে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মামলার বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিরসন এবং আদালতে কোন কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা যাবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় বিচারক সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। নতুন নির্ধারিত এই তারিখটি আদালতের বিভিন্ন বিষয় নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সময় নিশ্চিত করবে।

আগামী মাসে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ওই দিন ছিনতাই করা উড়োজাহাজ দিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে হামলা চালানো হয় এবং আরেকটি উড়োজাহাজ পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এসব হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। মার্কিন সরকারের ভাষায়, এটি আধুনিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সংঘটিত সবচেয়ে গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর জন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেগুলো নিয়ে হামলার পরিকল্পনা তিনিই করেছিলেন এবং পরে তা আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের কাছে নিয়ে যান। ২০০৩ সালের মার্চে পাকিস্তান থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে বিভিন্ন গোপন আটককেন্দ্রে রাখা হয় এবং ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৫ জন বন্দী রয়েছেন।

এর আগে মৃত্যুদণ্ড এড়াতে খালিদ শেখ মোহাম্মদ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। দুই বছর ধরে আলোচনার পর তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের নিয়োগ দেওয়া একজন কর্মকর্তা এতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে অস্টিন এই সমঝোতার বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিলেন না বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি এটি বাতিল করার চেষ্টা করেন এবং গত বছরের গ্রীষ্মে একটি ফেডারেল আপিল আদালত সমঝোতাটি বাতিল করে দেয়।