লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ হামলা, সংঘর্ষে ৩০ হুথি নিহত

ইয়েমেনে সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা এবং সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (19 September 2026) সকাল ০৮:৪৫ (08:45) এএম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ২৬টি হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এছাড়া গত এক সপ্তাহে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি হামলার সংখ্যা ৩০০টিতে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি।

এদিকে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে লড়াই বৃদ্ধি পাওয়া অন্যতম প্রধান ফ্রন্ট তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিইয়াহ জেলায় তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এই সংঘর্ষে তাদের অভিযানে ৩০ জন হুথি বিদ্রোহী নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। মূলত সরকারি সামরিক বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করার পরই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘাতের এই আবহে রাজধানী সানায় হাজার হাজার মানুষ মিছিল করে হুথিদের প্রতি সমর্থন জানায় এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এরই মধ্যে লোহিত সাগর উপকূলের একটি বড় অংশ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে হুথিরা তাদের অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই পক্ষের লড়াইয়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে বলে উভয় পক্ষের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ড্রোন ও বিমান হামলার বিষয়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, তায়েফ প্রদেশে একটি হুথি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে হুথি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম দাবি করেছে, তাইজ ও আবস শহরে সৌদি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

লোহিত সাগরে হুথিদের দ্রুত ভূখণ্ড দখলের ঘটনা এবং বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ছে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বৈঠকে হুথিরা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে যে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো জাহাজকে তারা লক্ষ্যবস্তু বানাবে না। তবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সরাসরি হুথিদের ওপর হামলা চালানোর আহ্বান জানানো হলেও ওয়াশিংটন এখনো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান ব্যয়বহুল উত্তেজনার মধ্যে নতুন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র খুলতে চাইছে না যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, লোহিত সাগরের পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হতে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস জানান, ওই অঞ্চলে জোটের নৌ মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপাইডিস’ তাদের সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে। কায়া কালাস বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার লক্ষ্যে তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বেনাপোলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ২৬ হামলা, সংঘর্ষে ৩০ হুথি নিহত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:১৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনে সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা এবং সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (19 September 2026) সকাল ০৮:৪৫ (08:45) এএম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ২৬টি হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এছাড়া গত এক সপ্তাহে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি হামলার সংখ্যা ৩০০টিতে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি।

এদিকে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে লড়াই বৃদ্ধি পাওয়া অন্যতম প্রধান ফ্রন্ট তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিইয়াহ জেলায় তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। এই সংঘর্ষে তাদের অভিযানে ৩০ জন হুথি বিদ্রোহী নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। মূলত সরকারি সামরিক বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করার পরই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘাতের এই আবহে রাজধানী সানায় হাজার হাজার মানুষ মিছিল করে হুথিদের প্রতি সমর্থন জানায় এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এরই মধ্যে লোহিত সাগর উপকূলের একটি বড় অংশ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে হুথিরা তাদের অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই পক্ষের লড়াইয়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে বলে উভয় পক্ষের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ড্রোন ও বিমান হামলার বিষয়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, তায়েফ প্রদেশে একটি হুথি ড্রোন প্রতিহত করার পর সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে হুথি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম দাবি করেছে, তাইজ ও আবস শহরে সৌদি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

লোহিত সাগরে হুথিদের দ্রুত ভূখণ্ড দখলের ঘটনা এবং বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ছে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বৈঠকে হুথিরা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে যে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো জাহাজকে তারা লক্ষ্যবস্তু বানাবে না। তবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সরাসরি হুথিদের ওপর হামলা চালানোর আহ্বান জানানো হলেও ওয়াশিংটন এখনো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান ব্যয়বহুল উত্তেজনার মধ্যে নতুন কোনো যুদ্ধক্ষেত্র খুলতে চাইছে না যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, লোহিত সাগরের পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হতে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস জানান, ওই অঞ্চলে জোটের নৌ মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপাইডিস’ তাদের সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে। কায়া কালাস বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার লক্ষ্যে তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান।