লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নুসরাত হত্যা: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ৪ আসামির আপিল দায়ের

ফেনীর বহুল আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে চারজন আসামির পক্ষে আপিল দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির আসামিপক্ষে এই আপিল দায়ের করেন। আপিল দায়েরকারী আসামিরা হলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদ্দৌলা, জুবায়ের, কামরুন নাহার পপি ও জাবেদ।

আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নিম্ন আদালতের রায়ে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনকে খালাস দিয়ে কারাগার থেকে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয় এবং বাকি ৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। সাজা বহাল থাকা ৬ জনের মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আপিলের মূল যুক্তি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে শিশির মনির আদালত ও তদন্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু আইনি অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়া হয় এবং ৬ এপ্রিল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কারাগারের ভেতর থেকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারা প্রয়োগ করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও কেবল ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এ ধরনের সাজা আইনসঙ্গত নয়।

তিনি আরও বলেন, মামলায় নুসরাতের দেওয়া মৃত্যুপূর্ব জবানবন্দি (ডায়িং ডিক্লারেশন) মূল ভিত্তি হলেও তাতে অসঙ্গতি রয়েছে। জবানবন্দিতে ছাদের ওপর বোরকা পরিহিত চারজন ‘মেয়ে’র উপস্থিতির কথা বলা হলেও সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পপি ছাড়া বাকিরা পুরুষ। এছাড়া মামলায় মোট ১২ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও পিবিআই হেফাজতে নির্যাতনের মুখে তা নেওয়া হয়েছিল বলে পরবর্তীতে অভিযোগ করা হয়। স্বীকারোক্তি দেওয়াদের মধ্য থেকেও ১০ জনকে খালাস দেওয়ায়, একই প্রেক্ষাপটে কাউকে খালাস এবং কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে আইনের দৃষ্টিতে স্ববিরোধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উম্মে সুলতানা পপি ও মনিকে কেন্দ্র করেও বোরকা সংগ্রহের অভিযোগে পরস্পরবিরোধী যুক্তি রয়েছে বলে আপিলে দাবি করা হয়।

আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় মাদ্রাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিল। অথচ তদন্ত সংস্থা পিবিআই সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ আদালতে উপস্থাপন করেনি। নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে এই ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে তারা মনে করেন। শিশির মনির আশা প্রকাশ করেন, আপিল বিভাগ এসব আইনি অসঙ্গতি ও যুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে আসামিদের ন্যায়বিচার প্রদান করবেন।

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়হীনতা ছিল, তদন্তের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নুসরাত হত্যা: হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ৪ আসামির আপিল দায়ের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেনীর বহুল আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে চারজন আসামির পক্ষে আপিল দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির আসামিপক্ষে এই আপিল দায়ের করেন। আপিল দায়েরকারী আসামিরা হলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদ্দৌলা, জুবায়ের, কামরুন নাহার পপি ও জাবেদ।

আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নিম্ন আদালতের রায়ে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনকে খালাস দিয়ে কারাগার থেকে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয় এবং বাকি ৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। সাজা বহাল থাকা ৬ জনের মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আপিলের মূল যুক্তি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে শিশির মনির আদালত ও তদন্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু আইনি অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়া হয় এবং ৬ এপ্রিল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কারাগারের ভেতর থেকে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাক্ষ্য আইনের ১০ ধারা প্রয়োগ করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও কেবল ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এ ধরনের সাজা আইনসঙ্গত নয়।

তিনি আরও বলেন, মামলায় নুসরাতের দেওয়া মৃত্যুপূর্ব জবানবন্দি (ডায়িং ডিক্লারেশন) মূল ভিত্তি হলেও তাতে অসঙ্গতি রয়েছে। জবানবন্দিতে ছাদের ওপর বোরকা পরিহিত চারজন ‘মেয়ে’র উপস্থিতির কথা বলা হলেও সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পপি ছাড়া বাকিরা পুরুষ। এছাড়া মামলায় মোট ১২ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও পিবিআই হেফাজতে নির্যাতনের মুখে তা নেওয়া হয়েছিল বলে পরবর্তীতে অভিযোগ করা হয়। স্বীকারোক্তি দেওয়াদের মধ্য থেকেও ১০ জনকে খালাস দেওয়ায়, একই প্রেক্ষাপটে কাউকে খালাস এবং কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে আইনের দৃষ্টিতে স্ববিরোধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উম্মে সুলতানা পপি ও মনিকে কেন্দ্র করেও বোরকা সংগ্রহের অভিযোগে পরস্পরবিরোধী যুক্তি রয়েছে বলে আপিলে দাবি করা হয়।

আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় মাদ্রাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিল। অথচ তদন্ত সংস্থা পিবিআই সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ আদালতে উপস্থাপন করেনি। নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে এই ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে তারা মনে করেন। শিশির মনির আশা প্রকাশ করেন, আপিল বিভাগ এসব আইনি অসঙ্গতি ও যুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে আসামিদের ন্যায়বিচার প্রদান করবেন।