লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ৭ দফা নির্দেশনা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম। দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত দফা নির্দেশনার আলোকে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর। কারাগারের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলাহীনতা, দায়িত্বে অবহেলা এবং নিয়মকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ না করার ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানিয়েছেন, নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এর সুফল দৃশ্যমান হবে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে অধিদপ্তর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে, যার অংশ হিসেবে সারাদেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে এবং নিয়মিত মতামত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

নতুন এই নির্দেশনার আওতায় লকআপ পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। জরুরি ক্ষেত্র ছাড়া যেকোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার জন্য জেলারের লিখিত অনুমোদন ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণসহ রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। যেসব কারাগারে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ নেই, সেখানে উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করে প্রশিক্ষিত ও কারিগরি দক্ষ জনবল দিয়ে নজরদারি বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে 'শূন্য-সহনশীলতা' নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো প্রহরী বা পাহারাদার বিনা অনুমতিতে নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অবহেলা গোপন করা বা রিপোর্ট করতে বিলম্বের জন্য তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত কর্মীদের আন্তঃকারাগারে বদলি এবং বারবার অপরাধ করা কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও কাউন্সেলিংয়ের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রতিকূল আবহাওয়া বিশেষ করে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় প্রহরীদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তা চৌকি ও সিসিটিভি ব্যবস্থা তদারকি করতে বলা হয়েছে। আগস্ট মাসে জারি করা এই নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল যে, কারাগারের অভ্যন্তরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এবং জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি, ঘোষণা নাহিদ ইসলামের

দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ৭ দফা নির্দেশনা

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম। দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত দফা নির্দেশনার আলোকে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কারা অধিদপ্তর। কারাগারের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলাহীনতা, দায়িত্বে অবহেলা এবং নিয়মকানুন সঠিকভাবে অনুসরণ না করার ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম জানিয়েছেন, নির্দেশনাগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এর সুফল দৃশ্যমান হবে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে অধিদপ্তর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে, যার অংশ হিসেবে সারাদেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন তদারকি করা হচ্ছে এবং নিয়মিত মতামত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

নতুন এই নির্দেশনার আওতায় লকআপ পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। জরুরি ক্ষেত্র ছাড়া যেকোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার জন্য জেলারের লিখিত অনুমোদন ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণসহ রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। যেসব কারাগারে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ নেই, সেখানে উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করে প্রশিক্ষিত ও কারিগরি দক্ষ জনবল দিয়ে নজরদারি বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে 'শূন্য-সহনশীলতা' নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো প্রহরী বা পাহারাদার বিনা অনুমতিতে নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অবহেলা গোপন করা বা রিপোর্ট করতে বিলম্বের জন্য তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত কর্মীদের আন্তঃকারাগারে বদলি এবং বারবার অপরাধ করা কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও কাউন্সেলিংয়ের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রতিকূল আবহাওয়া বিশেষ করে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় প্রহরীদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তা চৌকি ও সিসিটিভি ব্যবস্থা তদারকি করতে বলা হয়েছে। আগস্ট মাসে জারি করা এই নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছিল যে, কারাগারের অভ্যন্তরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এবং জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।