লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পবিপ্রবির প্রকৌশলীর পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ, আইনি নোটিশ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হাসান মাহমুদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের ১৫ দিনের সময় দিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আরিফুল ইসলাম। নোটিশে অনিয়মের তদন্ত সাপেক্ষে পদোন্নতি পুনর্বিবেচনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসান মাহমুদ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) পদে কর্মরত ছিলেন, তখন তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি)-এর এএমআইই কোর্স সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নথিপত্রেও এই অনিয়মের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন এবং ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ের মধ্যেই তিনি কোর্স করার আবেদন করেছিলেন, কিন্তু অনুমতির নির্ধারিত শর্ত মানা হয়নি।

প্রকৌশলীর পদোন্নতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নোটিশটি। ২০২৩ সালের ২২ মার্চ অফিস আদেশের মাধ্যমে তাঁকে সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও তা ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর দেখানো হয়েছে। অথচ পদোন্নতির সুপারিশকারী সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ১২ মার্চ এবং পরবর্তীতে রিজেন্ট বোর্ডের ৫১তম সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইনজীবীর দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরিবিধি নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী তারিখ থেকে পদোন্নতি কার্যকর করা হয়েছে, যা নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত বিধিবিধানের যথাযথ অনুসরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।

এছাড়া নোটিশে হাসান মাহমুদের বাবা মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে। মুজিবুর রহমান দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়েই এই অনিয়ম আড়াল করে পদোন্নতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে অভিযোগ তদন্তের জন্য অধ্যাপক আবুল বাশার খানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদন, সুপারিশ কিংবা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসমক্ষে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে আইনজীবী অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

পবিপ্রবির প্রকৌশলীর পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ, আইনি নোটিশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) হাসান মাহমুদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের ১৫ দিনের সময় দিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আরিফুল ইসলাম। নোটিশে অনিয়মের তদন্ত সাপেক্ষে পদোন্নতি পুনর্বিবেচনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসান মাহমুদ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) পদে কর্মরত ছিলেন, তখন তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি)-এর এএমআইই কোর্স সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নথিপত্রেও এই অনিয়মের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন এবং ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ের মধ্যেই তিনি কোর্স করার আবেদন করেছিলেন, কিন্তু অনুমতির নির্ধারিত শর্ত মানা হয়নি।

প্রকৌশলীর পদোন্নতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নোটিশটি। ২০২৩ সালের ২২ মার্চ অফিস আদেশের মাধ্যমে তাঁকে সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও তা ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর দেখানো হয়েছে। অথচ পদোন্নতির সুপারিশকারী সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ১২ মার্চ এবং পরবর্তীতে রিজেন্ট বোর্ডের ৫১তম সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইনজীবীর দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরিবিধি নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী তারিখ থেকে পদোন্নতি কার্যকর করা হয়েছে, যা নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত বিধিবিধানের যথাযথ অনুসরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।

এছাড়া নোটিশে হাসান মাহমুদের বাবা মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে। মুজিবুর রহমান দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়েই এই অনিয়ম আড়াল করে পদোন্নতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে অভিযোগ তদন্তের জন্য অধ্যাপক আবুল বাশার খানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদন, সুপারিশ কিংবা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসমক্ষে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে আইনজীবী অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।