লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বরেকর্ডে ইতালির পাশে স্পেন

ফরাসিদের হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। মঙ্গলবার রাতে ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে স্প্যানিয়ার্ডরা। এই জয়ের মাধ্যমে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ডে ইতালির পাশে নাম লেখালো স্পেন। এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রবার্তো মানচিনির ইতালি টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছিল।

২০২৪ সালের মার্চ মাসে প্রীতি ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারের পর থেকে স্পেন আর কোনো ম্যাচ হারেনি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারানোর পর এই অপরাজিত থাকার ধারা ৩৭ ম্যাচে পৌঁছাল। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পাওয়ার মাধ্যমেই তারা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করেছিল।

কিলিয়ান এমবাপ্পে বনাম লামিন ইয়ামাল লড়াইয়ের আগে ফুটবল বোদ্ধারা ম্যাচটিকে ফাইনালের আগে ‘আরেক ফাইনাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ফ্রান্সকে ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনালে হারানোর অভিজ্ঞতা ছিল স্পেনের বর্তমান স্কোয়াডের। এরপর উয়েফা নেশন্স লীগের সেমিফাইনালেও ফরাসিদের কাঁদায় লা রোহারা। এর আগে ২০১২ (২০১২) ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালেও স্পেন জয় পেয়েছিল। সেমিফাইনালের আগে লামিন ইয়ামাল তাই বলেছিলেন, ‘স্পেনকে ফ্রান্সের ভয় পাওয়া উচিত। হয় তারা টানা তৃতীয় ফাইনালে খেলবে নতুবা আমরা তাদের টানা তৃতীয়বার হারাবো।’

ম্যাচের ২০তম মিনিটে লুকাস দিনিয়ে ফ্রান্সের পেনাল্টি বক্সে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি এক মৌসুমে স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে ১৪টি গোল করে ডেভিড ভিয়ার রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের উইলিয়াম সালিবা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে তার পরিবর্তে ম্যাক্সাঁস লাক্রোয়া মাঠে নামেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ৫৮ মিনিটে পেদ্রো পোরো দানি ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু-পাস খেলে ফ্রান্সের জালে বল জড়িয়ে স্পেনের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। টটেনহ্যাম হটস্পারের এই রাইট ব্যাকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই প্রথম গোল। ৬৪ মিনিটে লামিন ইয়ামাল বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ৮৭ মিনিটে উনাই সিমোনকে ধাক্কা দেওয়ার দায়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩৯ দেখায় এটি স্পেনের ১৯তম জয়।

আগামী রোববার নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠান। স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়া এই জমকালো আয়োজনে লরা পাউসিনি, নিকোল শেরজিঙ্গার, রবি উইলিয়ামস, আইশোস্পিড এবং হলিউড তারকা টম ক্রুজ উপস্থিত থাকবেন।

স্পট কিক থেকে স্পেনকে এগিয়ে নিতে ভুল করেননি মিকেল ওইয়ারসাবাল। ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়াঁ ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন, নিজের বাঁ দিকে। কিন্তু ওইয়ারসাবালের জোরালো শট গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে স্পেনের হয়ে মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলসংখ্যা ১৪। এর মধ্য দিয়ে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। এক মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে এত গোল এর আগে কোনো স্প্যানিশ ফুটবলার করতে পারেননি। এত দিন রেকর্ডটি ছিল ডেভিড ভিয়ার। ২০০৮-০৯ মৌসুমে তিনি করেছিলেন ১৩ গোল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প দম্পতির অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বরেকর্ডে ইতালির পাশে স্পেন

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩০:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ফরাসিদের হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। মঙ্গলবার রাতে ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে স্প্যানিয়ার্ডরা। এই জয়ের মাধ্যমে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ডে ইতালির পাশে নাম লেখালো স্পেন। এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রবার্তো মানচিনির ইতালি টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছিল।

২০২৪ সালের মার্চ মাসে প্রীতি ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারের পর থেকে স্পেন আর কোনো ম্যাচ হারেনি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারানোর পর এই অপরাজিত থাকার ধারা ৩৭ ম্যাচে পৌঁছাল। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পাওয়ার মাধ্যমেই তারা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করেছিল।

কিলিয়ান এমবাপ্পে বনাম লামিন ইয়ামাল লড়াইয়ের আগে ফুটবল বোদ্ধারা ম্যাচটিকে ফাইনালের আগে ‘আরেক ফাইনাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ফ্রান্সকে ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনালে হারানোর অভিজ্ঞতা ছিল স্পেনের বর্তমান স্কোয়াডের। এরপর উয়েফা নেশন্স লীগের সেমিফাইনালেও ফরাসিদের কাঁদায় লা রোহারা। এর আগে ২০১২ (২০১২) ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালেও স্পেন জয় পেয়েছিল। সেমিফাইনালের আগে লামিন ইয়ামাল তাই বলেছিলেন, ‘স্পেনকে ফ্রান্সের ভয় পাওয়া উচিত। হয় তারা টানা তৃতীয় ফাইনালে খেলবে নতুবা আমরা তাদের টানা তৃতীয়বার হারাবো।’

ম্যাচের ২০তম মিনিটে লুকাস দিনিয়ে ফ্রান্সের পেনাল্টি বক্সে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি এক মৌসুমে স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে ১৪টি গোল করে ডেভিড ভিয়ার রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের উইলিয়াম সালিবা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে তার পরিবর্তে ম্যাক্সাঁস লাক্রোয়া মাঠে নামেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ৫৮ মিনিটে পেদ্রো পোরো দানি ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু-পাস খেলে ফ্রান্সের জালে বল জড়িয়ে স্পেনের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। টটেনহ্যাম হটস্পারের এই রাইট ব্যাকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই প্রথম গোল। ৬৪ মিনিটে লামিন ইয়ামাল বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ৮৭ মিনিটে উনাই সিমোনকে ধাক্কা দেওয়ার দায়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩৯ দেখায় এটি স্পেনের ১৯তম জয়।

আগামী রোববার নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠান। স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়া এই জমকালো আয়োজনে লরা পাউসিনি, নিকোল শেরজিঙ্গার, রবি উইলিয়ামস, আইশোস্পিড এবং হলিউড তারকা টম ক্রুজ উপস্থিত থাকবেন।

স্পট কিক থেকে স্পেনকে এগিয়ে নিতে ভুল করেননি মিকেল ওইয়ারসাবাল। ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়াঁ ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন, নিজের বাঁ দিকে। কিন্তু ওইয়ারসাবালের জোরালো শট গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে স্পেনের হয়ে মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলসংখ্যা ১৪। এর মধ্য দিয়ে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। এক মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে এত গোল এর আগে কোনো স্প্যানিশ ফুটবলার করতে পারেননি। এত দিন রেকর্ডটি ছিল ডেভিড ভিয়ার। ২০০৮-০৯ মৌসুমে তিনি করেছিলেন ১৩ গোল।