লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা: ইরান ও ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপের সাফাই

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরান ও ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে জোরালো সাফাই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবারের এই ভাষণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে, তেহরান যদি সমঝোতায় না আসে তবে তাদের ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণেই ইরানের পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের পথ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে সংঘাত নিরসনের জন্য এখনো একটি চুক্তির পথ খোলা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, ইরানকে অবশ্যই পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে আসতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সেই সাথে তিনি অন্যান্য দেশগুলোকেও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

ভেনেজুয়েলার বিষয়ে ট্রাম্প তার প্রশাসনের পদক্ষেপকে পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। এছাড়া, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তেল চুক্তির বিষয়টিও সামনে এসেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম কমাতে এবং রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের এই মঞ্চে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্যের সময় ইরানের প্রতিনিধিদল অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে। উল্লেখ্য, সংঘাতের মধ্যেই বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্পের এই ভাষণ একদিকে যেমন কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যেও তার এই নীতির বৈধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রয়োজন ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়ালটনে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ, আবেদন ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে

জাতিসংঘে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা: ইরান ও ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপের সাফাই

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরান ও ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে জোরালো সাফাই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবারের এই ভাষণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে, তেহরান যদি সমঝোতায় না আসে তবে তাদের ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণেই ইরানের পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের পথ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে সংঘাত নিরসনের জন্য এখনো একটি চুক্তির পথ খোলা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, ইরানকে অবশ্যই পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তিতে আসতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সেই সাথে তিনি অন্যান্য দেশগুলোকেও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

ভেনেজুয়েলার বিষয়ে ট্রাম্প তার প্রশাসনের পদক্ষেপকে পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। এছাড়া, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তেল চুক্তির বিষয়টিও সামনে এসেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম কমাতে এবং রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের এই মঞ্চে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্যের সময় ইরানের প্রতিনিধিদল অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে। উল্লেখ্য, সংঘাতের মধ্যেই বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্পের এই ভাষণ একদিকে যেমন কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যেও তার এই নীতির বৈধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রয়োজন ছিল।