লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখা একমাত্র দেশ আর্জেন্টিনা

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্পোর্টস মোল’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ল আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচটিতে চেলসি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেন রেফারি স্ল্যাভকো ভিনচিচকে অশ্রদ্ধা প্রকাশের কারণে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ করে অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটে পৌঁছানোর পর, স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর একটি অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে তিনি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা যখন ম্যাচটিকে টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস গোলটি করেন, যা নিকো উইলিয়ামসের চমৎকার নকডাউন থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসেছিল। পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের পোস্টে একটিও গোলমুখে শট রাখতে পারেনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলোয়াড় বহিষ্কার হওয়ার তালিকায় এনজো ফার্নান্দেজ অনুসরণ করলেন তার দুই পূর্বসূরি পেদ্রো মনজোন এবং গুস্তাভো দেজোত্তিকে। তারা দুজনই ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে লাল কার্ড পেয়েছিলেন—বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার ঘটনা সেটাই ছিল একমাত্র। এর আগে সর্বোচ্চ দুটি লাল কার্ড নিয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকার শীর্ষে ছিল। ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ সালে মার্সেল দেসাই এবং ২০০৬ সালে মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করার জেরে জিনেদিন জিদান লাল কার্ড দেখেছিলেন। তবে রোববারের (১৯ জুলাই) এই ঘটনার পর এককভাবে এই বাজে রেকর্ডের মালিক এখন আর্জেন্টিনা।

এই পরাজয় বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আর্জেন্টিনার বেদনাময় ইতিহাসকে আরও প্রসারিত করল। ১৯৩০, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালের ফাইনাল হারার পর এখন তাদের ঝুলিতে মোট চারটি রানার্সআপ ট্রফি যোগ হলো, যা বিশ্বমঞ্চে যৌথভাবে জার্মানির সঙ্গে সর্বোচ্চ ফাইনাল হারের রেকর্ড। আর্জেন্টিনা তিনটি শিরোপা (১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২) জয়ের পাশাপাশি এই হতাশার রেকর্ডটিরও ভাগিদার হলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনার খবরে তেলের দাম হ্রাস

বিশ্বকাপ ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখা একমাত্র দেশ আর্জেন্টিনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘স্পোর্টস মোল’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে ফাইনালে তিনটি লাল কার্ড দেখার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ল আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচটিতে চেলসি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেন রেফারি স্ল্যাভকো ভিনচিচকে অশ্রদ্ধা প্রকাশের কারণে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ করে অতিরিক্ত সময়ের তিন মিনিটে পৌঁছানোর পর, স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর একটি অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে তিনি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা যখন ম্যাচটিকে টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস গোলটি করেন, যা নিকো উইলিয়ামসের চমৎকার নকডাউন থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসেছিল। পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের পোস্টে একটিও গোলমুখে শট রাখতে পারেনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলোয়াড় বহিষ্কার হওয়ার তালিকায় এনজো ফার্নান্দেজ অনুসরণ করলেন তার দুই পূর্বসূরি পেদ্রো মনজোন এবং গুস্তাভো দেজোত্তিকে। তারা দুজনই ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে লাল কার্ড পেয়েছিলেন—বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের দুজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার ঘটনা সেটাই ছিল একমাত্র। এর আগে সর্বোচ্চ দুটি লাল কার্ড নিয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তালিকার শীর্ষে ছিল। ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ সালে মার্সেল দেসাই এবং ২০০৬ সালে মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করার জেরে জিনেদিন জিদান লাল কার্ড দেখেছিলেন। তবে রোববারের (১৯ জুলাই) এই ঘটনার পর এককভাবে এই বাজে রেকর্ডের মালিক এখন আর্জেন্টিনা।

এই পরাজয় বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আর্জেন্টিনার বেদনাময় ইতিহাসকে আরও প্রসারিত করল। ১৯৩০, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালের ফাইনাল হারার পর এখন তাদের ঝুলিতে মোট চারটি রানার্সআপ ট্রফি যোগ হলো, যা বিশ্বমঞ্চে যৌথভাবে জার্মানির সঙ্গে সর্বোচ্চ ফাইনাল হারের রেকর্ড। আর্জেন্টিনা তিনটি শিরোপা (১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২) জয়ের পাশাপাশি এই হতাশার রেকর্ডটিরও ভাগিদার হলো।