লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২২-এর আক্ষেপ ভুলে ২০২৬-এর নায়ক লাওতারো মার্তিনেজ

আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে লিওনেল মেসির ক্রস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছিলেন লাওতারো মার্তিনেজ। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে তাঁর করা এই গোলটি যেন আর্জেন্টিনার আরেকটি প্রত্যাবর্তনের গল্পের সাক্ষী হয়ে রইল। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত মার্তিনেজকে দেখা গিয়েছিল কান্নায় ভেঙে পড়তে, যা অনেক ভক্তের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

নিজের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অবদান ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করেছেন মার্তিনেজ। তিনি জানান, শৈশবের সেই প্রথম বুটজোড়া থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মা যেভাবে তাঁর পাশে আছেন, তা যেকোনো গোলের চেয়েও বেশি মূল্যবান। দুই সন্তানের বাবা হওয়ার পর তিনি নিজেকে আরও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে অনুভব করেন।

আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস প্রদেশের বাইয়া ব্লাংকায় বেড়ে ওঠা মার্তিনেজের ফুটবল জীবনের শুরু হয়েছিল বাবার হাত ধরে। তাঁর দুই ভাইয়ের একজন পেশাদার ফুটবলার এবং অন্যজন বাস্কেটবল খেলোয়াড় হলেও লাওতারো শেষ পর্যন্ত ফুটবলকেই নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন। রেসিং ক্লাবে কঠিন শুরুর পর ২০১৮ সালে ইন্টার মিলানের জার্সিতে তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সিরি ‘আ’-তে একাধিকবার সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব জেতা মার্তিনেজ ইন্টারের ইতিহাসের অন্যতম সফল গোলদাতা।

২০২২ বিশ্বকাপে গোড়ালির চোট নিয়ে খেলা মার্তিনেজের সময়টা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের পর প্রথম একাদশে জায়গা হারানো এবং গোলহীন টুর্নামেন্ট কাটানো সেই আক্ষেপ আজও তাঁকে তাড়া করে। তবে ২০২৪ কোপা আমেরিকায় গোল্ডেন বুট জয় এবং ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোল করার মাধ্যমে তিনি আবারও নিজের ফর্ম ফিরে পান। ২০২৬ বিশ্বকাপে জর্ডানের বিপক্ষে গোল এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোল দিয়ে তিনি নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে গোল পাওয়ার ব্যাপারে তিনি সতীর্থ ম্যাক আলিস্টার ও মেদিনাকে আগেই জানিয়েছিলেন। সামনে ফাইনাল, যেখানে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ইতিহাস গড়ার জন্য একটি মুহূর্তই যথেষ্ট—এমনটাই বিশ্বাস করেন লাওতারো।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে দুই দফা হামলা, ক্ষোভ নাহিদ ইসলামের

২০২২-এর আক্ষেপ ভুলে ২০২৬-এর নায়ক লাওতারো মার্তিনেজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:১৬:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে লিওনেল মেসির ক্রস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছিলেন লাওতারো মার্তিনেজ। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে তাঁর করা এই গোলটি যেন আর্জেন্টিনার আরেকটি প্রত্যাবর্তনের গল্পের সাক্ষী হয়ে রইল। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত মার্তিনেজকে দেখা গিয়েছিল কান্নায় ভেঙে পড়তে, যা অনেক ভক্তের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

নিজের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অবদান ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করেছেন মার্তিনেজ। তিনি জানান, শৈশবের সেই প্রথম বুটজোড়া থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত মা যেভাবে তাঁর পাশে আছেন, তা যেকোনো গোলের চেয়েও বেশি মূল্যবান। দুই সন্তানের বাবা হওয়ার পর তিনি নিজেকে আরও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে অনুভব করেন।

আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস প্রদেশের বাইয়া ব্লাংকায় বেড়ে ওঠা মার্তিনেজের ফুটবল জীবনের শুরু হয়েছিল বাবার হাত ধরে। তাঁর দুই ভাইয়ের একজন পেশাদার ফুটবলার এবং অন্যজন বাস্কেটবল খেলোয়াড় হলেও লাওতারো শেষ পর্যন্ত ফুটবলকেই নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন। রেসিং ক্লাবে কঠিন শুরুর পর ২০১৮ সালে ইন্টার মিলানের জার্সিতে তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সিরি ‘আ’-তে একাধিকবার সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব জেতা মার্তিনেজ ইন্টারের ইতিহাসের অন্যতম সফল গোলদাতা।

২০২২ বিশ্বকাপে গোড়ালির চোট নিয়ে খেলা মার্তিনেজের সময়টা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের পর প্রথম একাদশে জায়গা হারানো এবং গোলহীন টুর্নামেন্ট কাটানো সেই আক্ষেপ আজও তাঁকে তাড়া করে। তবে ২০২৪ কোপা আমেরিকায় গোল্ডেন বুট জয় এবং ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোল করার মাধ্যমে তিনি আবারও নিজের ফর্ম ফিরে পান। ২০২৬ বিশ্বকাপে জর্ডানের বিপক্ষে গোল এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোল দিয়ে তিনি নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে গোল পাওয়ার ব্যাপারে তিনি সতীর্থ ম্যাক আলিস্টার ও মেদিনাকে আগেই জানিয়েছিলেন। সামনে ফাইনাল, যেখানে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ইতিহাস গড়ার জন্য একটি মুহূর্তই যথেষ্ট—এমনটাই বিশ্বাস করেন লাওতারো।