লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের চমৎকার সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ নির্দেশনা দেন। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই যৌথ সামরিক মহড়াগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলো উত্তর কোরিয়ার প্রতি একটি ‘অনুপযুক্ত ও শত্রুতাপূর্ণ’ বার্তা পাঠায়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউসে তার পূর্ববর্তী মেয়াদকালে উত্তর কোরিয়া সম্পূর্ণ হুমকিহীন ও সম্মানজনক আচরণ করেছিল। কিম জং উনের সঙ্গে তার সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালানোর মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তবে চলমান মহড়াটি বাতিল করার সময় পার হয়ে যাওয়ায়, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে এর পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন。

সামরিক মহড়ার পাশাপাশি ইরানের বিষয়েও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নিজের মতপার্থক্যের কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু সিউল তাতে রাজি হয়নি।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের বিপরীতে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি মেনেই যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এই বার্ষিক মহড়াটি আগামী ১৭ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১১ দিন ধরে চলার কথা রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করতে এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেবেন।

উত্তর কোরিয়া অবশ্য শুরু থেকেই এই যৌথ সামরিক মহড়ার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এসব মহড়া মূলত তাদের ওপর হামলা চালানোর একটি প্রস্তুতি। গত সপ্তাহেও উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এই মহড়াকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা এখন একটি ‘পারমাণবিক জোটে’ রূপ নিচ্ছে। এর জবাবে তারা নতুন মাত্রার হুমকির বিরুদ্ধে নতুন প্রতিরক্ষামূলক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেয়।

এই হুঁশিয়ারির পরদিনই কিম জং উনের পাশে দাঁড়ানো নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন ট্রাম্প। তিনি মন্তব্য করেন, ছবিতে কিমের চেহারায় বন্ধুত্বপূর্ণ ভাব না থাকলেও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আসলে দারুণ। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে কিম জং উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকের পর ট্রাম্প এই মহড়াগুলোকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৯৮

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের চমৎকার সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ নির্দেশনা দেন। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই যৌথ সামরিক মহড়াগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলো উত্তর কোরিয়ার প্রতি একটি ‘অনুপযুক্ত ও শত্রুতাপূর্ণ’ বার্তা পাঠায়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউসে তার পূর্ববর্তী মেয়াদকালে উত্তর কোরিয়া সম্পূর্ণ হুমকিহীন ও সম্মানজনক আচরণ করেছিল। কিম জং উনের সঙ্গে তার সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালানোর মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তবে চলমান মহড়াটি বাতিল করার সময় পার হয়ে যাওয়ায়, তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে এর পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন。

সামরিক মহড়ার পাশাপাশি ইরানের বিষয়েও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নিজের মতপার্থক্যের কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু সিউল তাতে রাজি হয়নি।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের বিপরীতে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি মেনেই যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এই বার্ষিক মহড়াটি আগামী ১৭ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১১ দিন ধরে চলার কথা রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করতে এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেবেন।

উত্তর কোরিয়া অবশ্য শুরু থেকেই এই যৌথ সামরিক মহড়ার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এসব মহড়া মূলত তাদের ওপর হামলা চালানোর একটি প্রস্তুতি। গত সপ্তাহেও উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এই মহড়াকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা এখন একটি ‘পারমাণবিক জোটে’ রূপ নিচ্ছে। এর জবাবে তারা নতুন মাত্রার হুমকির বিরুদ্ধে নতুন প্রতিরক্ষামূলক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেয়।

এই হুঁশিয়ারির পরদিনই কিম জং উনের পাশে দাঁড়ানো নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন ট্রাম্প। তিনি মন্তব্য করেন, ছবিতে কিমের চেহারায় বন্ধুত্বপূর্ণ ভাব না থাকলেও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আসলে দারুণ। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে কিম জং উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকের পর ট্রাম্প এই মহড়াগুলোকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেছিলেন।